
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিখ্যাত বিনিয়োগকারী এবং স্টক মার্কেটের বিগ বুল রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালার অকাল মৃত্যু সারা দেশে এবং বিশেষত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি করেছে। রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালার পোর্টফোলিও খুচরা বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও নজর রাখতেন। কারণ ভারতীয় স্টক মার্কেটের ‘বিগ বুল’ এমন অনেক বাজি ধরেছেন যা তাকে আকর্ষণীয় রিটার্ন এনে দিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা সর্বদা তার পোর্টফোলিও থেকে যে স্টকগুলি যোগ করে বা ছাঁটাই করা হত তার উপর নজর রাখতেন। রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালার অকাল মৃত্যুর ঘটনায়, একটি খুব প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে মৃত ব্যক্তির শেয়ার এবং স্টক স্থানান্তরের প্রসঙ্গে। সকলের মনেই এখন প্রশ্ন এই স্কটক এবং শেয়ারগুলির কি হবে।
একজন ব্যক্তির অকালমৃত্যুর ক্ষেত্রে, তার স্টক এবং শেয়ারগুলি একজন নোটারি অথবা গেজেটেড অফিসারের অ্যাটেস্ট করা একটি ডেথ সার্টিফিকেট কপি জমা দিয়ে মনোনীতদের কাছে পাঠানো যেতে পারে।
এই ফর্মটি অবশ্যই NSDL বা CDSL-এর মতো উপযুক্ত কাস্টোডিয়ানের কাছে নিবন্ধিত হতে হবে। মনোনয়ন নিবন্ধিত না হলে, মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের অবশ্যই যেগুলির মধ্যে একটি জমা দিতে হবে সেগুলি হল উইলের প্রোবেট, সাক্সেশন সার্টিফিকেট এবং লেটারস অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।
জানা গিয়েছে যে মনোনীত ব্যক্তি একজন ট্রাস্টি তিনি মালিক নয়। যদি উইল থাকে, তাহলে উইল অনুযায়ী শেয়ারের লেনদেন করা হবে। নাহলে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী আইনি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে তা বিতরণ করা হবে।
রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা ৬২ বছর বয়সে মুম্বইয়ের ব্রীচ ক্যান্ডি হাসপাতালে মারা যান। রবিবার সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরেই ডায়াবেটিস এবং কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন বিগ বুল। ফোর্বস সূত্রে জানা গিয়েছে রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালার মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৫.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
পৃথিবীর অন্যতম ধনি মানুষদের তালিকাতেও তিনি ছিলেন। ভারতের ৩৬তম ধনী ব্যক্তি ছিলেন তিনি। পৃথিবীতে তাঁর স্থান ছিল ৪৩৮তম। শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগের পাশাপাশি তিনি বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রেও পথ চলা শুরু করেছিলেন। গতও সপ্তাহেই প্রথমবার মুম্বই থেকে আমেদাবাদ উড়ে যায় তাঁর আকাশা এয়ারের প্রথম বিমান।
মাত্র পাঁচ হাজার টাকা হাতে নিয়ে তিনি শেয়ার বাজারে পথ চলা শুরু করেন। সেই সময় সেনসেক্স ছিল ১৫০ পয়েন্ট। মাত্র এক বছরের মধ্য়ে মাত্র ৪৩ টাকায় ‘টাটা টি’-র পাঁচ হাজার শেয়ার তিনি কিনে নেন। তিন মাসে স্টকের দাম ১৪৩ টাকায় পৌঁছে যায়। মাত্র তিন বছরের মধ্যে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা আয় করেন তিনি।
(Source: zeenews.com)
