
#ওয়াশিংটন: ভেন্টিলেশন থেকে বের করা হল প্রখ্যাত লেখক সলমান রুশদিকে। প্রাণঘাতী হামলার পর গুরুতর জখম লেখক এখন কথা বলতে পারছেন। গত শুক্রবার সকালে নিউইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতার সময় তাঁর উপর ছুরি চালায় এক দুষ্কৃতী। রুশদির সচিব অ্যান্ড্রু ওয়াইলি জানিয়েছেন, লেখককে ভেন্টিলেটর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি কথা বলতে পারবেন, জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। ভারতীয় বংশোদ্ভূত-ব্রিটিশ লেখক সলমান রুশদিকে আক্রমণকারী হাদি মাতার নিউইয়র্কের একটি আদালতে আবেদন করেছেন যে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে দোষী নন তিনি।
শনিবার মাতারকে কেন্দ্রীয়ভাবে সাজা দেওয়া হয় এবং চৌতাকুয়া কাউন্টি জেলে জামিন ছাড়াই রিমান্ডে নেওয়া হয়। হাদি মাতারের আইনজীবীর নাথানিয়েল ব্যারোনের মতে, তাঁর মক্কেল মাতার দোষী নন, জানিয়েছে সিএনএন। “২০২২ সালের ১২ অগাস্ট ফৌজদারি তদন্ত ব্যুরো ফেয়ারভিউয়ের ২৪ বছর বয়সী হাদি মাতারকে হত্যার প্রচেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে। মাতারকে এসপি জেমসটাউনে তোলা হয় এবং চৌতাকুয়া কাউন্টি জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৩ অগাস্ট তাঁকে কেন্দ্রীয়ভাবে সাজা দেওয়া হয় এবং চৌতাকুয়া কাউন্টি জেলে জামিন ছাড়াই রিমান্ডে নেওয়া হয়,” এক বিবৃতিতে জানিয়েছে নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ।
বিবৃতি অনুযায়ী, “১২ অগাস্ট, ২০২২, সকাল ১০:৪৭ নাগাদ, একজন পুরুষ সন্দেহভাজন যাঁকে পরে ফেয়ারভিউয়ের ২৪ বছর বয়সী হাদি মাতার নামে শনাক্ত হয়, মঞ্চে উঠে সলমান রুশদিকে আক্রমণ করে। রুশদি গভীর ছুরিকাঘাতের শিকার হন। ঘাড় ও বুকে ক্ষত হয়েছে তাঁর এবং হেলিকপ্টারে করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
নিউ ইয়র্ক স্টেট পুলিশ আরও জানিয়েছে, অনুষ্ঠানের সহবক্তা রাল্ফ হেনরি রিসেরও মাথায় সামান্য আঘাত লেগেছে। তাঁর বিখ্যাত বই ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ নিয়ে প্রাণনাশের হুমকির মুখে বারবারই পড়েছেন রুশদি। নিউইয়র্কের মঞ্চে উঠে একাধিকবার ছুরি দিয়ে তাঁকে কোপায় হাদি মাতার।
১৯৮৮ সালের বই ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’-এর বিরুদ্ধে তৎকালীন ইরানের বিপ্লবী নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ফতোয়া জারি করলে কয়েক বছর আত্মগোপনে বাধ্য হন রুশদি। রুশদির উপর এই হামলা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক নিন্দার মুখে পড়েছে।
