
কী করে সৃষ্টি হল গর্ত, প্রাথমিক ধারণা
বিজ্ঞানীরা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন, গ্রহাণু প্রভাবের কারণে এই সুবিশাল গর্ত তৈরি হতে পারে। আটলান্টিক মহাসাগরের যে অংশ ওই গর্ত তৈরি হয়েছে, সেখানে গ্রহাণুর প্রমাণ মিলেছে। কোনও গ্রহাণু আটলান্টিক মহাসাগরে পড়ার পর এই বিশাল গর্ত তৈরি হতে পারে। তবে গ্রহাণু ছাড়াও মহাসাগরের তলদেশে সুবিশাল গর্ত তৈরির অন্যান্য কোনও কারণ রয়েছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কোথায় মিলেছে আটলান্টিকের ওই গর্ত
পশ্চিম আফ্রিকার গিনির উপকূল থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে ওই গর্তের অবস্থান। সেখান থেকে শুরু করে আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে সাড়ে আট কিলোমিটার প্রস্থ বরাবর ওই গর্তটি রয়েছে বলে জানতে পারা গিয়েছে। সমুদ্রতলের প্রায় ৪০০ মিটার নীচে গর্তটি মিলেছে। এখনও দৈর্ঘ্য নিশ্চিত করা যায়নি। কী কারণে ওই গর্তের সৃষ্টি তাও বোঝা যায়নি সুনিশ্চিত করে।

যদি সমুদ্রতলে গর্ত করে অনুসন্ধান চালানো যায়
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, তাঁরা যদি সমুদ্রতলের নীচে গর্ত করে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া চালাতে পারেন, তবে নিশ্চিত হতে পারবেন গ্রহাণুর জন্যই এই গর্তের সৃষ্টি হয়েছে কি না। ওই জায়গা থেকে ড্রিল করে নমুনা সংগ্রহ করার ব্যাপারে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা। তাহলে গ্রহাণু তত্ত্বটি প্রমাণ করতে পারবেন এবং তা যে ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে হয়েছিল, তার প্রমাণও করতে পারবেন।

৬৬ মিলিয়ন বছর আগের ঘটনায় ভূ-তাত্ত্বিক পরিবর্তন
৬৬ মিলিয়ন বছর আগে ‘চিক্সুলুবু’ নামে একটি গ্রহাণু পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়েছিল। গ্রহাণুটি পড়ে থাকতে পারে আটলান্টিকের বুকে। ওই গ্রহাণু পৃথিবীকে আঘাত করে, যার ফলে ডাইনোসরকে বিলুপ্ত করে দেয়। সেইসব অনুসন্ধানগুলি সম্প্রতি সায়েন্স অ্যাডভান্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। পৃথিবীর উপর বৃহৎ গ্রহাণু ও ধুমকেতুর পতন যে এমন ভূতাত্ত্বির পরিবর্তন ঘটাতে পারে, তার প্রমাণও মিলবে এর ফলে।
