
কী বলছে রিপোর্টে
সিএমটিই রিপোর্ট অনুসারে ২০১৫-১৬ সালে ভারতের ৪২ শতাংশ কর্মী ছিল চল্লিশ ও পঞ্চাশের কোটায়। ২০১৯-২০ সালে সেই সংখ্যা ৫১ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২১-২২ সাল অর্থাৎ করোনা মহামারীর পরবর্তী সময়ে তা দাঁড়িয়েছে ৫৭ শতাংশে। অন্যদিকে, ২০১৬-১৭ সালে ভারতের ১৭ শতাংশ শ্রমশক্তি ১৫ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে আটকে ছিল। কিন্তু ২০২১-২২ সালে তা আরও কমে যায়। ১৩ শতাংশে নেমে যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে, তরুণ প্রজন্মের কর্মক্ষেত্রে যোগদানের বিলম্বের অন্যতম কারণ হতে পারে উচ্চশিক্ষা।

কমছে শিক্ষাগত যোগ্যতা
সিএমটিই-এর তরফে জানানো হয়েছে, ভারতের কর্মশক্তি ক্রমেই মধ্যয়স্ক কেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। যা ভারতের জন্য ভালো খবর নয়। এরফলে দেশে কর্মক্ষমতা হ্রাস পাবে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মদক্ষতা হ্রাস পায়। সিএমটিই-এর তরফে জানানো হয়েছে, সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, কর্মকশক্তিতে শিক্ষগত যোগ্যতার অবনতি হয়েছে। ২০১৭-১৮ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ১২.৯ শতাংশ কর্মী স্নাতক বা স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ। ২০১৮-১৯ সালে তা সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ১৪.৪ শতাংশ। ২০১৯-২০ সালে আবার তা নেমে ১৩.২ শতাংশে পৌঁছয়। ২০২০-২১ সালে তা আংশিকভাবে কিছুটা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২.২ শতাংশ।

কর্মীদের বেশিরভাগে সর্বোচ্চ উচ্চমাধ্যমিক পাশ
সিএমটিই-এর তরফে জানানো হয়েছে, যদি শ্রমশক্তি ক্রমাগত বয়স্ক ও কম শিক্ষিতদের মধ্যে আবর্তিত হয়, সেক্ষেত্রে জনসংখ্যাগত লভ্যাংশ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায়। সিএমটিই-এর সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয় কর্মীদের বেশিরভাগ মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পাশ। ভারতের মোট শ্রমশক্তির ২০১৬-১৭ সালে ২৮ শতাংশের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল ২৮ শতাংশ। ২০২১-২২ সালে তা সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ শতাংশ। একইভাবে যাদের সর্বোচ্চ শিক্ষার মান ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণির মধ্যে ২০১৬-১৭ সালে তার পরিসংখ্যান ছিল ১৮ শতাংশ। ২০২১-২২ সালে তা একলাফে বেড়ে যায় ২৯ শতাংশ। সিএমটটিই-এর তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। একদিকে যখন ভারতে ছাত্রের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে, সেই সময় কর্মীদে শিক্ষাগত যোগ্যতার অভাব দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।
