
#কলকাতা: প্রতি বছর অগাস্ট মাসে শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গঙ্গার জল ভরা বাঁক কাঁধে নিয়ে কচুয়াধাম বা চাকলা যান হাজার হাজার পুণ্যার্থী। ফলত বিভিন্ন গঙ্গার ঘাটগুলোতে পূণ্যার্থীদের ভিড় হয় চোখে পড়ার মত, আগাম সতর্ক থাকার জন্য গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটে মোতায়ন রাখা হয় কলকাতা পুলিশের বাহিনী। ঘাটে কলকাতা পুলিশের কর্মী মোতায়েন রাখার মতই গঙ্গার ধরে নৌকা নিয়ে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে বির্পযয় রক্ষা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার হুগলি নদীর ঘাটগুলিতে জল নেওয়ার উদ্দেশ্যে অগণিত ভক্ত সমাগম হয়েছিল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রতিবারই এই নিরাপত্তা যথেষ্ট আঁটোসাঁটো করা শুধু নয় দফায় দফায় নজরদারিও চলর পুলিশের তরফে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভিড়ও বাড়ছিল যার পুলিশের অনুমান ছিল আগাম। বৃহস্পতিবার বাগবাজারে মায়ের ঘাটেও রাতের দিকে পূণ্যার্থীদের ভিড় হয়েছিল যথেষ্ট।
সেই বাগবাজারের মা এর ঘাটে বিভিন্ন পুলিশ কর্মীদের মতই উপস্থিত ছিলেন কর্তব্যরত ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের সেপাই শচীন কুমার দাস ও সিভিক ভলান্টিয়ার কৃষ্ণ ঘোষ। ডিউটির মধ্যেই হঠাৎ করে বিকেলের দিকে সাড়ে চারটে নাগাদ দুজনেরই আচমকা চোখ পড়ে এক অভাবনীয় দৃশ্যের, দুজনেই দেখেন জলের তোড়ে ভেসে যাচ্ছেন এক মহিলা। ঘাট চত্বরে থাকা লোকজনের চিৎকারে আরও তৎপরতা বাড়তে থাকে পুলিশের।
কী ঘটছে তৎক্ষনাৎ বুঝতে পেরে কালবিলম্ব না করে জলে ঝাঁপ দেন শচীন, বেশ কিছুটা সময় নিজের কর্তব্য পালন ও মানবিকতা খাতিরে ঝুঁকি নিয়ে নেন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের সেপাই শচীন কুমার দাস।
কিছু সময় পরেই এক মহিলাকে উদ্ধার করে ঘাটে ফিরিয়ে আনেন ওই কর্তব্যরত ডিএমজি কর্মী। তারমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান কলকাতা পুলিশের নর্থ পোর্ট থানার পুলিশ। উদ্ধার করে নর্থ পোর্ট থানার ডিউটি অফিসারের হাতে তুলে দেওয়া হয় ওই মহিলাকে। সেখান থেকেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জানা গিয়েছে, তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।
Susovan Bhattacharjee
