
জীবনদাতাই এই পৃথিবীকে গ্রাস করে নেবে
মহাকাশ বিজ্ঞানীরা বলেন, সূর্য হল আগুনের বল। পারমাণবিক পদার্থবিদ্যার নীতি অনুযায়ী কাজ করে। এবং পৃথিবীতে থাকা জীবকূল তথা জীবনকে শক্তির জোগান দেয়। কিন্তু এমন একটা সময় আসবে, যখন জীবনদাতাই এই পৃথিবীকে গ্রাস করে নেবে। একটা সময় যখন সূর্য তার সমস্ত জ্বালানি (হাইড্রোজেন) ব্যয় করে ফেলবে। তারপর চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে পৃথিবীর মতো গ্রহগুলিতে।

সূর্যে এই তিন গ্রহকে গ্রাস করে নেবে একদিন
মহাকাশ বিজ্ঞানীরা বলেন সূর্যের সমস্ত জ্বালানি নিঃশেষ করার সঙ্গে সঙ্গে সূর্য একটি লাল দৈত্যে পরিণত হবে। কিন্তু তা জীবনদানকারী শক্তি হারিয়ে ফেলবে। তখন সূর্য তার চারপাশে ঘুরতে থাকা গ্রহগুলিতে শিকার হিসেবে বেছে নেবে। সূর্যের অভ্যন্তরীণ গ্রহ বলতে বোঝায় বুধ, শুক্র ও পৃথিবীকে। তখন সূর্যে এই তিন গ্রহকে গ্রাস করে নেবে।

আগেই পৃথিবী হয়ে যাবে অন্য গ্রহের মতো প্রাণহীন
তবে পৃথিবীতে যে সভ্যতা গড়ে উঠেছে, যে জীবন রয়েছে। সেসব আগেই বিলীন হয়ে যাবে। পৃথিবী হয়ে যাবে অন্য গ্রহের মতোই প্রাণহীন। গবেষকরা মনে করছেন এমনটাই। রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নালে প্রকাশের জন্য জমা দেওয়া গবেষণায় বলা হয়েছে, সূর্যের মতো নক্ষত্রের বাইরে গরম গ্যাসের সঙ্গে একটি গ্রহ বা বাদামী বামন নক্ষত্রের মিথস্ক্রিয়া তৈরি হতে পারে। তার ফলে তারার বিবর্তন ঘটতে পারে।

গ্রহগুলি থেকে শক্তি আহরণ করে নেবে সূর্য
গবেষকরা তাঁদের গবেষণায় জানতে পেরেছেন সূর্য তার গ্রহগুলিকে খেয়ে নিয়ে নিজে জীবন্ত থাকতে পারে। গ্রহগুলিকে গ্রাস করে নিয়ে সূর্যের উজ্জ্বলতা আরও কয়েক হাজার বছর বেড়ে যেতে পারে। গ্রহগুলি থেকে শক্তি আহরণ করে নেবে সূর্য। এর ফলেই নক্ষত্রের বিবর্তন সম্ভব হবে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লেখক রিকার্ডো ইয়ারজা ব্যাখ্যা করেছেন এই গবেষণার।

হাইড্রোজেন ফুরিয়ে গেলে লাল দৈত্য হবে সূর্য
এই গবেষণার আরও জানা গিয়েছে, বিবর্তিত নক্ষত্রগুলি তাদের গ্রহের থেকে হাজদার গুণ পর্যন্ত হতে পারে। বৃহস্পতির ভররে প্রায় ১০০ গুণ ছোট কোনও গ্রহ সূর্যের মতো নক্ষত্রের বেষ্টনী থেকে বের হতে পারে না। ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে, প্রা. ৪.৫৭ বিলিয়ন বছর বয়সের সঙ্গে সূর্য বর্তমানে তার আরামদায়ক মধ্য বয়সে রয়েছে। সূর্যের হাইড্রোজেন আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। হাইড্রোজেন ফুরিয়ে গেলে লাল দৈত্য নক্ষত্রে পরিণত হবে এবং তার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা কমিয়ে দেবে।
(Source: oneindia.com)
