
#শিলিগুড়ি: রঙিন মাছ চাষ করে স্বনির্ভরতার পথ দেখাচ্ছে গাজলডোবার মিঠুন। ‘ভোরের আলো’ বাস্তবিক অর্থেই নতুন ভোর এনে দিয়েছে গাজলডোবার মানুষকে। যেখানে একসময় শহরের মানুষ পা রাখার কথা ভেবেও দেখেননি, সেখানেই এখন সকাল হলেই ছুটে যান হাজার হাজার মানুষ। দিনভর কাটিয়ে সন্ধেয় ঘরে ফেরেন। পর্যটনের অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠেছে। আর রাজ্য সরকারের হাত ধরে হঠাৎ উন্নত হয়ে ওঠা গাজলডোবায় আরেক ভোরের স্বপ্ন দেখছেন মিঠুন মালো। মৎসজীবী পরিবারের পরিশ্রমী যুবক।
মেগা ট্যুরিজম হাবের ধারে থাকা মিলনপল্লি গ্রামকে তিনি রঙিন মাছ চাষের হাব করে গড়ে তুলতে চান। ইতিমধ্যে নিজেই শুরু করেছেন সেই কাজ। নিজেরই মামাকে সঙ্গে নিয়ে দুটি পুকুর ও অন্তত ৬টি চৌবাচ্চায় শুরু করেছেন রঙিন মাছের চাষ। সেই মাছ শিলিগুড়ি শহর তো বটেই, ডুয়ার্সের মালবাজার, জলপাইগুড়ি-সহ আশপাশের এলাকায় পাঠাচ্ছেন। লকডাউনের আগে নেপালেও পাঠানো শুরু করেছিলেন। কিন্তু লকডাউনের পরবর্তী সময় থেকে নেপালে মাছ পাঠানো বন্ধ হয়ে আছে। চেষ্টা করছেন, কারও মাধ্যমে সিকিম বা অন্য রাজ্যে মাছ পাঠানো যায় কিনা।
পাশাপাশি, সরকার যদি সামান্য সহযোগিতা করে তবে অনেক মানুষ এই পেশায় আসতে পারবেন এবং উত্তরবঙ্গে রঙিন মাছের জোগানের জন্য কলকাতা নির্ভরতা কাটানো যাবে বলে জানান মিঠুন। মিঠুন জানান, ‘রেড কার্প, গোল্ড ফিস, ওরেন্ডা, কবুতর, মিল্কি কার্প, ভেটকি, শঙ্খিনীর চাষ করছি। গোল্ড ফিসের চাহিদাও বেশি। দামও ভাল পাওয়া যাচ্ছে। নগদ টাকার অভাবে আরও আকর্ষনীয় মাছ চাষ করতে পারছি না। সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। সেটা হলে গোটা এলাকা রঙিন মাছের অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।’
রতন মালো জানান, ‘আমাদের প্রয়োজন আরও নতুন বাজার ও মাছ চাষের ক্ষেত্রে সরকারি পরামর্শ। যদিও আমরা কেরল থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছি। তবে সরকার যুক্ত হলে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ আরও ভাল হবে। এখানে ঠিকঠাক চাষ হলে কলকাতা থেকে আর মাছ আনার প্রয়োজন হবে না।’
অনির্বাণ রায়
