
দুনিয়ার কাজ সহজ করে তুলছে যন্ত্র। আর এ সব যন্ত্রের আত্মা হল প্রযুক্তি। সেই প্রযুক্তির কৌশলেই আজ বলীয়ান মানুষ। গত দু’বছরে সামাজিক যোগযোগের নতুন দিগন্ত যে ভাবে উন্মোচিত হয়েছে তাতে অপরিহার্য হয়ে গিয়েছে প্রযুক্তি।
বর্তমানে ল্যাপটপও আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে। জীবনের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে সক্ষম এই ল্যাপটপকে দরকার পড়াশোনা থেকে শুরু করে বিনোদন পর্যন্ত—সর্বত্র। তবে একাকী ল্যাপটপে সব কাজ না। তার কিছু সহকারীকে সঙ্গে জুড়ে নিলে আরও ভাল কাজ করা সম্ভব।
জেনে নেওয়া যাক তেমনই কিছু গ্যাজেটের কথা—
Stylus:
স্টাইলাস অনেকটাই কলমের মতো একটি ডিভাইস যা টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে সাপোর্ট যুক্ত ল্যাপটপে ব্যবহার করা যায়। এটি লেখা, ডুডল, ছবি আঁকা এবং আরও অনেক কিছুতে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বেশির ভাগ ল্যাপটপে স্টাইলাস সাপোর্ট থাকে না। সুতরাং, এর জন্য একটি থার্ড পার্টি স্টাইলাস কেনা যেতে পারে।
USB-powered lamps:
আরেকটি দুর্দান্ত গ্যাজেট হল ইউএসবি-চালিত এলইডি ল্যাম্প। এ গুলি বেশ কম দামেই বিভিন্ন আকারে পাওয়া যায়। পড়াশোনার জন্য এ গুলি এক কথায় অসাধারণ। এটি কি বোর্ডের জন্য ‘ব্যাকলিট’ হিসাবেও কাজ করতে পারে।
Anti-glare filters:
ল্যাপটপের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলে তাতে চোখের সমস্যা হতে পারে। আসলে ল্যাপটপের উজ্জ্বল আলোর পর্দা আমাদের চোখের ক্ষতি করে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে স্ক্রিনের উপরে অ্যান্টি-গ্লেয়ার ফিল্টার লাগানো যেতে পারে। স্ক্রিন থেকে আলোর প্রতিফলন কমিয়ে দেবে। তার ফলে ঘরের বাইরে সূর্যের আলোয় কাজ করার সময়ও স্ক্রিন স্পষ্ট দেখা যাবে। শুধু তাই নয়, এতে থাকে এক ধরনের গোপনীয়তার ফিল্টারও। যেটি ব্যবহার করলে পাশ থেকে অন্য কোনও ব্যক্তি উঁকি দিয়েও ল্যাপটপের স্ক্রিনে কী চলছে তা দেখতে পাবেন না। ফলে বোঝাই যায় বাইরে কাজ করার পক্ষে এটি কতটা জরুরি।
Camera shutter:
ক্যামেরার শাটার ভুলবশত ছবি তোলা বা স্পাইওয়্যার/ম্যালওয়্যার ভাইরাসের হাত থেকে প্রতিরোধ করে।
Laptop power bank:
আমাদের ল্যাপটপের ব্যাটারি লাইফ ভালো থাকা সত্ত্বেও, কাজের সময় প্রায়ই ল্যাপটপের চার্জ কমে যায়। এই পরিস্থিতিতে ল্যাপটপের জন্য একটি পাওয়ার ব্যাঙ্ক কিনে নেওয়া যেতে পারে। তবে তার আগে ভাল করে জেনে নিতে হবে যে এটি নির্দিষ্ট ল্যাপটপের চার্জিং পিনের সঙ্গে সাজুয্য যুক্ত কি না। পাশপাশি এতে কমপক্ষে ১০০০০mAh ব্যাটারি পাওয়ার রয়েছে কি না।
Laptop stand:
ল্যাপটপে কাজ করা যেমন সুবিধাজনক। তেমনই বেশিক্ষণ কাজ করলে শরীর খারাপ লাগতে শুরু করে। তার কারণ আর কিছুই নয়, শরীরের ভঙ্গিমা। এ জন্য ল্যাপটপ একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে এবং উচ্চতায় রেখে কাজ করা খুবই জরুরি, যাতে মেরুদণ্ড বেশি ঝুঁকে না পড়ে। কিন্তু ল্যাপটপের কাজই হল ঘরের বাইরে কাজ করতে সাহায্য করা।
তাই ল্যাপটপকে যে কোনও জায়গায় বহন করার জন্য ল্যাপটপ স্ট্যান্ড খুবই দরকারি। এর সাহায্যে যে কোনও স্থানে বসে অচিরেই ডেস্কটপের মতো ল্যাপটপ ব্যবহার করা যায়।
Cooling pad:
কুলিং প্যাডের সাহায্যে সাধারণত দীর্ঘ সময়ের জন্য গেম খেলা বা অন্য কাজের সময় ল্যাপটপকে ঠান্ডা রাখতে ব্যবহার করা হয়। এতে দীর্ঘ সময়ের জন্য ল্যাপটপের কর্মক্ষমতা বজায় থাকে।
Webcam:
যাঁদের সারাদিনে অনেক কনফারেন্সে যোগ দিতে হয় তাঁরা ভালো মানের ওয়েবক্যামে বিনিয়োগ করতে পারেন। কেননা বেশিরভাগ ল্যাপটপ ক্যামেরাই খুব একটা ভালো মানের হয় না। এর জন্য ভাল রেজোলিউশন এবং সাপোর্টিং সিস্টেম-সহ ওয়েবক্যাম ব্যবহার করা যেতে পারে।
Ring light:
রিং লাইট হল আরেকটি সাশ্রয়ী মূল্যের গ্যাজেট। এর সাহায্যে ভিডিও কনফারেন্সিং, অনলাইন গেমিং বা প্রচুর ব্লগিংয়ের জন্য রিং লাইট ব্যবহার করা যেতে পারে।
USB Type-C hub:
আধুনিক ল্যাপটপ বিশেষ করে স্লিম এবং হালকা ওজনের ল্যাপটপ যেমন MacBook Air, HP Specter X360 ইত্যাদিতে সাধারণত কয়েকটি USB Type-C পোর্টের সাপোর্ট থাকে। এর অর্থ হল আমরা যদি অন্য USB ডিভাইস বা ইথারনেট কেবল বা HDMI ব্যবহার করতে চাই তাহলে তা ব্যবহার করা যাবে না। সাধারণ ইউএসবি টাইপ-সি হাব এই সমস্যার সমাধান করতে পারে।
Laptop lock:
বাইরে কোনও ক্যাফে, রেস্তোরাঁয় বসে কাজ করতে হলে এই ল্যাপটপ লক হ্যাক হওয়ার হাত থেকে বাঁচায়।
