মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে শেখ হাসিনা, স্বাক্ষরিত হল জলবণ্টন-সহ সাতটি মউ

মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে শেখ হাসিনা, স্বাক্ষরিত হল জলবণ্টন-সহ সাতটি মউ

India

oi-Sanjay Ghoshal

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে বৈঠকের পর মউ স্বাক্ষরিত হল দু-দেশের। মঙ্গলবার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মোট সাতটি মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে কুশিয়াড়া নদীর জলবণ্টনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিও। উল্লেখ্য, সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে আসেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বেরিয়ে আসে সমাধান সূত্র। স্বাক্ষরিত হয় মউ। হায়দরাবাদ হাউসে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদীর বৈঠক হয়। জলবন্টন চুক্তি-সহ সাটতি মউ স্বাক্ষরিত হওয়ার পাশাপাশি দু-দেশের রাষ্ট্রপ্রধান কথা বলেন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বাণিজ্য। তাঁরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মজবুত করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। দু-দেশ হাত মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সম্মত হন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।

এদিন শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে আলোচনা হয় রেলপ্রযুক্তি নিয়ে। রেলপ্রযুক্তি উন্নত করতে মরিয়া দুই দেশই। ভারত-বাংলাদেশের চিরবন্ধুত্বের কথা বললেন দুই প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও আলোচনা করেন দু-দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। মোদী-হাসিনা দ্বিপাক্ষিক বৈঠক প্রত্যাশিতই ছিল। তা অবশেষে হল।

এদিনের বৈঠক শেষে অনেক বিষয়েই একটা সহমতে পৌঁছনো সম্ভব হয়। মোট সাতটি বিষয়ে চুক্তিস্বাক্ষর করেন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। স্বাক্ষরিত মউ চুক্তির মধ্যে যেমন রয়েছে কুশিযাড়া নদীর জলবণ্টন সমস্যার সমাধান, তেমনই রয়েছে সিএসআইআর এবং বিসিএসআইআর-এর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়টি।

ভোপালের ন্যাশনার জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমি ও বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করার বিষয়টিও ছিল চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। তার মধ্যে রয়েছে রেলচুক্তি। যাতে আগামী দিনে ভারতের প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের রেলকর্মীরা ট্রেনিং গ্রহণের সুবিধা পান, সে ব্যাপারেও আলোচনা হয়। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের সুবিধা যাতে বাংলাদেশ পায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

এছাড়া মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে বাংলাদেশের টেলিভিশন ও প্রসার ভারতীর মধ্যে। স্পেস টেকনোলজি নিয়েও দু-দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধযে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এই বৈঠকের পর আশাবাদী তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি নিয়েও। কুশিয়াড়া নদীর জলবণ্টনের পরে তিস্তা নিয়েও সমস্ত বাধার প্রাচীর সরে যাবে বলে মনে করছেন তিনি।

এদিন সাতটি বিষয়ে মউ স্বাক্ষরিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের মৈত্রী দীর্ঘদিনের। সেই সূত্র ধরে ভারত বাংলাদেশকে সমস্ত বিষয়েই সহযোগিতা করতে মুখিয়ে থাকে। এবার থেকে রেল, জলবণ্টন, মহাকাশ-সহ একাধিক বিষয়ে ঢাকাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে দিল্লি।

(Source: oneindia.com)