নাসার আর্টেমিস মিশন এ মাসেই, চন্দ্রাভিযানের লক্ষ্যে উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ চূড়ান্ত

নাসার আর্টেমিস মিশন এ মাসেই, চন্দ্রাভিযানের লক্ষ্যে উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ চূড়ান্ত

Science And Technology

oi-Sanjay Ghoshal

নাসার আর্টেমিস মিশন বারবার বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। অগাস্টের শেষ থেকে সাতদিনের মধ্যে দু’বার আর্টেমিস ১ উৎক্ষেপণ স্থগিত করতে হয়েছে। কিন্তু তৃতীয়বারের প্রচেষ্টা সফল করতে নাসা বদ্ধ পরিকর। চন্দ্রাভিযানের লক্ষ্যে আর্টেমিস ১-এর উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে ফেলেছে তারা। এ মাসেই হবে সফল অভিযান।

নাসা জানিয়েছে, পরবর্তী উৎক্ষপণের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বরের দিকে তাকিয়ে রয়েছে তাঁরা। একইসঙ্গে বিবেচনায় রাখা হয়েছে ২৭ সেপ্টেম্বরও। যদি নাসা দেখে ২৩ সেপ্টেম্বের কালবিলম্ব ঘটছে যাত্রা শুরুর মুখে। তখন ২৭ সেপ্টেম্বরকে তাঁরা চূড়ান্ত দিন হিসেবে বেছে নেবে। আর্টেমিস-১ নাসার নয়া অভিযানে সফল রূপ দান করবে।

২৯ অগাস্ট স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর ৩ সেপ্টেম্বর নাসার আর্টেমিস মিশন শুরুর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু তরল হাইড্রোজেন লিক শনাক্ত হওয়ায়, তা বন্ধ রাখা হয়। ফলে নাসার আর্টেমিস মিশন শুরুতেই দু-বার ব্যর্থ হয়েছে। এরপর নাসার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আর্টেমিস ১-এর ত্রুটি সারাতে নেমে পড়ে। লঞ্চ প্যাডে রেখেই আর্টেমিস ১-এর হাইড্রোজেন সিল প্রতিস্থাপন করা হয়।

নাসার প্রযুক্তিবিদরা জানিয়েছেন, আর্টেমিস ওয়ান রকেট লঞ্চ প্যাডে থাকাকালীন হাইড্রোজেন লিক হওয়ার কারণে ৩ সেপ্টেম্বর পাড়ি দিতে পারেনি মহাকাশে। এবার নাসার প্রযুক্তিবিদরা হাইড্রোজেনের সেই লিক সীল করে দিয়েছেন। স্পেস লঞ্চ সিস্টেমে রকেট এবং তরল হাইড্রোজেন জ্বালানি ফিড লাইনের মধ্যে দ্রুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। সেই প্রক্রিয়ায় আর বিঘ্ন ঘটবে না বলেই মনে করছেন প্রযুক্তিবিদরা।

আর্টেমিস মিশন ম্যানেজার মাইকেল সারাফিন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে জানান, স্পেস এজেন্সির রেঞ্জ ফ্লাইট সেফটি টিম মহাকাশে ফ্লাইট অপারেশনের সময় বিপদগুলিকে মোকাবিলা করবে। ইতিমধ্যেই লিক সীল করার পর মেরামত পরীক্ষা করা হয়েছে। সমস্যাটি আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য ডেটাও সংগ্রহ করে রাখা হবে।

নাসা দু-বার অভিযানে ব্যর্থ হওয়ায় ফ্লাইট টার্মিশন সিস্টেমের জন্য বর্তমান পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিল। ইউএস স্পেস এজেন্সি নাসার অনুরোধের পর্যালোচনা করে রেঞ্জের প্রক্রিয়াগুলি পর্যবেক্ষণ করেছে। এবং বিশদ তথ্য পরিবেশন করেছে। সেইমতো তথ্য বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত অভিযানের দিনস্থির হয়েছে।

নাসার অ্যাপোলো মিশনে শেষবার চন্দ্রাভিযানে মানুষ পাঠানো হয়েছিল ১৯৭২ সালে। তারপর ৫০ বছর অতিক্রান্ত। আবার আর্টেমিস মিশনে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেই কারণেই আর্টেমিস মিশনের প্রথম ধাপে মহাকাশে জীববিজ্ঞান পরীক্ষা করতে চাইছে নাসা। কিন্তু আর্টেমিস ১-একর উৎক্ষেপণ শুরুতেই বারবার বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। কিন্তু হাল না ছেড়ে ফের নাসা তৈরি ২০২৫-এই চাঁদের বুকে ফের নভশ্চর পাঠাতে।

(Source: oneindia.com)