
লোমশ মাকড়সার পায়ের মতো দেখতে
মহাকাশে ওই নার্সারির ছবি টেলিস্কোপ-বন্দি হওয়ার পর নাসা মনে করছে এর ফলে বৈজ্ঞানিক বোঝাপড়া আরও গভীর হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০ ডোরাডাস নামে পরিচিত ওই নার্সারি। মহাকাশের ওই অঞ্চলটিকে ধুলোময় ফিলামেন্ট দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে। একটি লোমশ মাকড়সার পায়ের মতো দেখতে ওই অঞ্চলটি।
দূরবর্তী মহাজাগতিক বস্তু থেকে আলো
ওয়েবের উচ্চ রেজোলিউশন ইনফ্রারেড যন্ত্রে হাজার হাজার তরুণ তারা দূরবর্তী পটভূমির ছায়াপথ এবং নীহারিকার গ্যাস ও ধূলিকণার কাঠামো বিশদভাবে উঠে আসে। ওয়েব প্রধানত ইনফ্রারেড বর্ণালীতে কাজ করে, কারণ মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের সময় দূরবর্তী মহাজাগতিক বস্তু থেকে আলো এই তরঙ্গদৈর্ঘ্যে প্রসারিত হয়।
ধুলোর মেঘের মধ্যে চিহ্নিত তারকা
টেলিস্কোপের প্রাথমিক ইমেজারে নিয়ার-ইনফ্রারেড ক্যামেরা নীহারিকাটির গহ্বরের ছবি তুলে ধরেছিল। তা ফ্যাকাশে নীল বিন্দু হিসেবে প্রদর্শিত হয়। ওয়েবের নিয়ার-ইনফ্রারেড স্পেকট্রোগ্রাফ বস্তুর গঠন নির্ধারণের জন্য আলোর নিদর্শন বিশ্লেষণ করে একটি তরুণ তারকাকে নিজের চারপাশে ধুলোর মেঘের মধ্যে পর্যবেক্ষণ করে।
ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্য শোষণ করে ছড়িয়ে দেয়
প্রাথমিকভাবে নক্ষত্র গঠনের পূর্ববর্তী পর্যায় বলে মনে হলেও, তা ইতিমধ্যেই ধুলোময় বুদবদু সরিয়ে নিজ রূপে আবির্ভূত হয়েছে। মিড ইনফ্রারেড ইনস্ট্রুমেন্ট ব্যবহার করেও এই অঞ্চলটি চিত্রিত করা হয়েছিল, যা ধূলিকণার মাধ্যমে ছিদ্র করতে ইনফ্রারেড তরঙ্গদৈর্ঘ্য ব্যবহার করে। ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্য শোষণ করে তা ছড়িয়ে দেয়।

‘মহাজাগতিক মধ্যাহ্ন’ নামে পরিচিত সময়কাল
এটি উষ্ণ নক্ষত্রগুলিকে বিবর্ণ করে দেয় এবং শীতল অঞ্চলগুলিকে স্পষ্ট করে দেয়। এমন আলোর বিন্দু প্রকাশ করে যা নাক্ষত্রিক নার্সারির মধ্যে আগে কখনও দেখা যায়নি। ট্যারান্টুলা নীহারিকাতে বিগ ব্যাংয়ের কয়েক বিলিয়ন বছর পর পর্যবেক্ষণ করা হয়। বিশাল নক্ষত্র-গঠনের অনুরূপ রাসায়নিক গঠনের এই সময়কাল ‘মহাজাগতিক মধ্যাহ্ন’ নামে পরিচিত।

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে নতুন যুগের সূচনা
মাত্র ১৬১০০০ আলোকবর্ষ দূরে ট্যারান্টুলা মহাজাগতিক সৃষ্টির এই বিকাশমান সময়ের একটি দৃশ্যমান উদাহারণ। ওয়েবের বিজ্ঞানীদেরকে মহাজাগতিক মধ্যাহ্নের প্রকৃত যুগ থেকে দূরবর্তী ছায়াপথের দিকে তাকানোর সুযোগ দেওয়া উচিত। সাদৃস্য পার্থক্য বোঝার জন্য এটিকে ট্যারান্টুলা পর্যবেক্ষণের সঙ্গে তুলনা করা উচিত। এভাবেই নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ নতুন যুগের সূচনা করবে।
