
সেটি সূর্যের আসল রং নয়, সূর্য আসলে সাদা
নাসার প্রাক্তন মহাকাশচারী স্কট কেলি বলেন, আমরা আসলে যেটা দেখি, সেটি সূর্যের আসল রং নয়। সূর্য আসলে সাদা। মঙ্গলবার তিনি সেই সত্য নিশ্চিত করেছেন। এবং বলেছেন, যাঁরা মনে করেন সূর্যের রং হলুদ, তাঁরা ভুল জানেন। আমাদের নক্ষত্রটিকে যে খালি চোখে বেশিরভাগ সময় হলুদ দেখায়, তার কারণ হল পদার্থবিদ্যার এক অদ্ভুত খেলা।
সূর্য কিন্তু সাদাই, তা দেখা যায় শুধু মহাকাশ থেকেই
পদার্থবিদ্যার আলোকবিজ্ঞানের অদ্ভুত খেলায় সূর্যকে হলুদ দেখায়। সূর্যালোকে মূলত সব রং একত্রে মিশ্রিত। সব রং একত্র বলে বিজ্ঞান দেখিয়েছে তা সাদা দেখায়। আর সূর্য তো সর্বরঙের সমাহার, তাহলে সেই যুক্তিতেও সূর্য সাদা হতে চায়। নাসার প্রাক্তন ওই মহাকাশচারী বলেন, সূর্য কিন্তু সাদাই। আর তা দেখা যায়, শুধু মহাকাশ থেকেই। পৃথিবী থেকে সূর্যকে সাদা দেখা যায় না।

মহাকাশে গেলেই সূর্য দেখা দেয় নিজের রঙে
তাঁর কথায়, আমাদের বায়ূমণ্ডলে সূর্য হলুদ দেখায়। কিন্তু আপনি যদি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ত্যাগ করেন, তখনই দেখবেন সূর্য কোনও একক রঙে দেখা যায় না। সূর্যের রং সাদা দেখায়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ছাড়িয়ে মহাকাশে গেলেই সূর্য দেখা দেয় নিজের রঙে, সেটাই প্রমাণ করে দেখিয়েছেন নাসার প্রাক্তন ওই মহাকাশচারী।

আলোর প্রতিটি রং একত্রিত হলে সাদা হয়ে যায়
তিনি বলেন, আমরা সূর্যের একক রং উপলব্ধি করতে অক্ষম কারণ সূর্যালোকের পরিমাণ কেবল আমাদের চোখের ফোটোরিসেপ্টর কোষগুলিকে পরিপূর্ণ করে। যার ফলে সমস্ত রং একসঙ্গে মিশে যায়। আলোর প্রতিটি রং একত্রিত হলে সাদা হয়ে যায়। তাই সূর্য পৃথিবীতে হলুদ হলেও মহাকাশে সাদা দেখায়।

সূর্যের আলো বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যখন যায়
নাসার মতে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সূর্যের রং একটি ভূমিকা পালন করে। যেহেতু ছোটো তরঙ্গদৈর্ঘ্যের নীল আলো দীর্ঘতর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের লাল আলোর থেকে বেশি দক্ষতার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। তাই সূর্যের আলো বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় আমরা সূর্যের কিছু নীল আভা হারিয়ে ফেলি। এছাড়া আমাদের বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যাওয়া দৃশ্যমান আলোর সমস্ত তরঙ্গদৈর্ঘ্য ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। শেষপর্যন্ত যে আভা অবশিষ্ট থাকে, তা আমরা দেখতে পাই।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের ক্ষেত্রে সূর্যালোক যেমন দেখায়
এক্স-রে এবং গামা-রে বিকিরণ মাটির কাছাকাছি আসার আগে ফিল্টার হয়ে যায়। বেশিরভাগ ইউভি স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারিক ওজোন দ্বারা শোষিত হয়। বেশিরভাগ জলীয় বাষ্প এবং অ-শূন্য ডাইপোল মোমেন্ট-সহ অন্যান্য অণু দ্বারা শোষিত হয় বলে মহাকাশ সংস্থা ব্যাখ্যা করেছে। আর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের ক্ষেত্রে সূর্যালোক অনেক বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যায়। নীল আলোও ছড়িয়ে পড়ে। আর লাল আলোর অনেক বেশি অংশ আমাদের চোখে পড়ে।
