সাংঘাতিক! ভিড়ের মধ্যেই বাইক ছুটিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে তাণ্ডব বিহারে

সাংঘাতিক! ভিড়ের মধ্যেই বাইক ছুটিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে তাণ্ডব বিহারে

বিকেল ফুরিয়ে সবে সন্ধে নামছিল। রাস্তাঘাট এবং দোকানপাটও বেশ জমজমাটই ছিল। এরই মধ্যে ভিড়ের বুক চিড়ে হাজির হল বাইক এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই আচমকা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করল বাইকের দুই সওয়ারি। মুহূর্তের মধ্যে সৃষ্টি হল বিশৃঙ্খলা। ভয়ে-আতঙ্কে পালাতে শুরু করে মানুষ। এখানেই শেষ নয়, এ-ভাবে রীতিমতো জাতীয় সড়ক ধরে বাইক ছুটিয়ে বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকায় ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে দেখা গিয়েছে ওই দুই বাইক আরোহীকে।

এ-যেন কোনও ছবির টান-টান দৃশ্য! আদতে এই ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের (Bihar) বেগুসরাই (Begusarai) জেলায়। ওই আততায়ীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন চন্দন কুমার নামে ৩০ বছর বয়সী এক যুবক। সেই সঙ্গে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও ১১ জন পথচারী। আহত পথচারীদের মধ্যে রয়েছেন পাটনার বাসিন্দা বিশাল সোলাঙ্কি, মোকামার বাসিন্দা রঞ্জিত যাদব, বেগুসরাইয়ের ফুলওয়ারিয়ার বাসিন্দা নীতেশ কুমার, তেয়ার বাসিন্দা গৌতম কুমার, বারাউনির বাসিন্দা অমরজিৎ কুমার, মনসুরচকের বাসিন্দা নীতিশ কুমার, মারানচির বাসিন্দা মোহন রাজা, প্রশান্ত কুমার রজক এবং ভরত যাদব। আহতদের মূলত বেগুসরাইয়ের সরকারি হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়েছে। আবার কাউকে কাউকে ভাল চিকিৎসার জন্য পাটনায় রেফার করা হয়েছে।

অভিযুক্ত আততায়ীদের খোঁজে ইতিমধ্যেই তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। যদিও এখনও পর্যন্ত তাদের শনাক্ত করা যায়নি। তবে এলাকার মানুষ ওই আততায়ীদের ‘সাইকো খুনি’ (Psycho Killer) বলে দাবি করছে। ঘটনাস্থলে সতর্কতা জারি করেছে জেলা পুলিশ। রাস্তাঘাটে না-বেরিয়ে এলাকাবাসীকে নিজেদের বাড়িতেই থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সে-দিন ঠিক কী হয়েছিল? পুলিশ জানিয়েছে, বিকাল ৫টা নাগাদ বেগুসরাই শহরতলির মালহিপুর চকে মোটরবাইকে আসে ওই বন্দুকবাজেরা। ব্যস্ত এলাকার দোকানপাটের দিকে তাক করে গুলি চালাতে থাকে। ফলে আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেন পথচারীরা এবং প্রাণ বাঁচাতে দোকান ফেলেই পালাতে থাকেন দোকানদারেরাও। এর পরে বাইক নিয়ে ওই দুই আততায়ী এগোতে থাকে। বারাউনি থার্মাল চক, বারাউনি, তেঘরা, বাচওয়ারা, রাজেন্দ্র ব্রিজে গিয়েও এলোপাথাড়ি গুলি চালায় তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আবার জানাচ্ছেন, ৩১ নং জাতীয় সড়ক ধরে এগোনোর সময়ও তাদের নির্বিচারে পথচারীদের উপর গুলি চালাতে দেখা গিয়েছে। তার পরে তারা সেখান থেকে ২৮ নং জাতীয় সড়কে উঠে বারাউনিতে পৌঁছয় এবং সেখানেও তাণ্ডব চালায়। পরে দুই বন্দুকবাজকে (Gunmen) পাটনার দিকে পালিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য শোনার পরে পাটনা পুলিশকে ইতিমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছে। এডিজি সদর দফতর জিতেন্দ্র সিং গাংওয়ার জানিয়েছেন যে, পাটনার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে সেখানে প্রবেশের সমস্ত রাস্তাই নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়েছে।

এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। কারণ এ-ভাবে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে এত জন পথচারীকে গুলিবিদ্ধ করে পালিয়ে গেল দুই দুষ্কৃতী, অথচ পুলিশ তাদের রুখতে পর্যন্ত পারল না। ফলে এই নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা এবং পুলিশি নিষ্ক্রয়তার অভিযোগও করেছেন তাঁরা। বেগুসরাইয়ের এসপি যোগেন্দ্র কুমার অবশ্য বলেন, একটি জায়গার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়েছে আততায়ীদের চেহারা। তাদের সনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।

(Source: news18.com)