প্রবল বেগে গ্রহাণুর দিকে ছুটে যাচ্ছে রোবটযান, নাসা কি তবে আত্মঘাতী অভিযানে

প্রবল বেগে গ্রহাণুর দিকে ছুটে যাচ্ছে রোবটযান, নাসা কি তবে আত্মঘাতী অভিযানে

নয়া মিশনে গ্রহাণু ধ্বংসকারী রকেট পাঠাচ্ছে নাসা

আগামী সপ্তাহেই ঘটতে চলেছে ডাবল অ্যাস্টেরয়েড রিডাইরেকশন টেস্টে বা ডার্ট। এই মিশনে গ্রহাণু ধ্বংসকারী রকেট পাঠাচ্ছে নাসা। এই মিশনে শুধু মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা নয়, জড়িয়েছে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এসাও। কেননা এবার যে গ্রহাণু পৃথিবী অভিমুখে ধেয়ে আসছে, তা মানব সভ্যতার পক্ষে ভয়াবহ হতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই নাসা ও এসা মিলে যৌথ অভিযানে নেমেছে।

মহাকাশেই গ্রহাণু ধ্বংস করে দেওয়ার পরিকল্পনা

মহাকাশেই গ্রহাণু ধ্বংস করে দেওয়ার পরিকল্পনা

প্রায়শই পৃথিবীর কাছ দিয়ে উড়ে যাচ্ছে বিভিন্ন গ্রহাণু। তার মধ্যে কিছু গ্রহাণু পৃথিবীর পক্ষে বিপজ্জনক। তেমনই একটি গ্রহাণুর হুমকিতে নাসা কোমর বেঁধেছে। যেহেতু গ্রহাণুটি পৃথিবীর ক্ষতি করতে পারে, সেহেতু মহাকাশেই তা ধ্বংস করে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নাসা এই কাজে মূল পরিকল্পনা করেছে। এই কাজে নাসার সহযোগী হয়েছে এসাও।

নাসা নতুন আত্মঘাতী অভিযান নেমেছে

নাসা নতুন আত্মঘাতী অভিযান নেমেছে

কখনও গ্রহাণু এমন সমস্যার সৃষ্টি করে যে, ধ্বংস হয়ে যেতে পারে মানব সভ্যতা। এর আগে গ্রহাণুর পতনে অবলুপ্তি হয়েছিল ডাইনোসরদের। এবার আবার গ্রহাণু পতনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তা মহাকাশেই প্রতিহত করা যায় কি না তা পরীক্ষা করে দেখনে নাসা নতুন এই মিশনে নেমেছে। আর সেই কারণেই এই আত্মঘাতী অভিযান।

ছোট আকারের একটি উপগ্রহও পাঠানো হচ্ছে

ছোট আকারের একটি উপগ্রহও পাঠানো হচ্ছে

এই মিশনে নাসা শুধু আত্মঘাতী রোবট যানই পাঠাচ্ছে না, পাঠাচ্ছে ছোট আকারের একটি উপগ্রহও। তা পাঠানো হচ্ছে ওই সংঘর্ষের ছবি তোলার জন্য। ২৪ ঘণ্টা পর সেটি পৃথিবীতে ফিরে আসবে। ডার্ট মহাকাশযানটির আকার একটি ওয়াশিং মেশিনের প্রায় দ্বিগুণ। বক্স আকৃতির এই মহাকাশযানের সঙ্গে দুটি ১৮ মিটার লম্বা সৌর প্যানেল সংযুক্ত করা হয়েছে।

পৃথিবী ও মঙ্গল গ্রহের মাঝে অবস্থিত ডিডাইমোসে নিশানা

পৃথিবী ও মঙ্গল গ্রহের মাঝে অবস্থিত ডিডাইমোসে নিশানা

২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ এয়ার ফোর্স বেস থেকে স্পেসএক্স সংস্থার ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে মহাকাশযানটি যাত্রা শুরু করেছিল। প্রায় ৯ মাস পর এটি পৃথিবী ও মঙ্গল গ্রহহের মাঝে অবস্থিত ডিডাইমোস গ্রহাণুর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। তবে ৭৪৯ মিটার ব্যাসার্ধের ডিডাইমোসকে প্রদক্ষিণ করা একটি ছোট আকারের গ্রহাণু রয়েছে। সেটিকেই ১৫ হাজার মাইল প্রতি ঘণ্টা বেগে আঘাত করবে ডার্ট মহাকাশযান।