
#কলকাতা: কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের জালে আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ী সুলতান আহমেদ। উদ্ধার ৪০ কোটি টাকা বাজারমূল্যের আফিম তৈরির কাঁচামাল, পোস্তর খোসা। পুলিশ সূত্রে খবর, আনন্দপুরের একটি গোডাউন থেকে বৃহস্পতিবার উদ্ধার করা হয় প্রায় চার হাজার কেজির বেশি পোস্তর খোসা।
আন্তর্জাতিক বাজারে যার মূল্য আনুমানিক ৪০ কোটি টাকা। কিন্তু এই পোস্তর খোসা এত মূল্যবান কী ভাবে ? কেনই বা পোস্তর খোসা মজুত করার জন্য গ্রেফতার করা হল সুলতান আহমেদকে? বলে রাখা ভাল, এই পোস্তর খোসা দিয়ে তৈরি হয় মাদকদ্রব্য আফিম। আফিমের মতো সস্তা মাদকদ্রব্য বাজারে সহজলোভ্য হলে খুব সহজেই তা মাদক সেবনকারীদের কাছে পৌঁছে যাবে, তাই পশ্চিমবঙ্গে বিনা অনুমতিতে পোস্ত চাষ কিংবা পোস্তর খোসা মজুত করাকে বেআইনি তকমা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, যে জায়গায় পুলিশি নজরদারি কম, ঝাড়খণ্ডের সেইরকম আদিবাসী অধ্যুষিত জায়গা বেছে এই পোস্ত চাষ করা হতো। রীতিমত দাদন দিয়েই পোস্তর চাষ করাতো এই সুলতান। কলকাতায় মজুত হলেও, এই বিপুল পরিমাণ মাদক শুধুমাত্র কলকাতায় নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারেও বিক্রি হতো বলে খবর পুলিশ সূত্রে।
গত ১৪ তারিখ ঝাড়খণ্ড থেকে আগত একটি কাঁচামাল বোঝাই ট্রাক আটক করে প্রায় ৫৩১ কেজি পোস্তর খোসা বাজেয়াপ্ত করে কলকাতা পুলিশ। কলকাতার কোথায় এই বিপুল পরিমাণ পোস্তর খোসা মজুত করা হচ্ছে, তার তদন্তে নামে কলকাতা পুলিশ।
ধৃতের কাছ থেকেই আনন্দপুরের গুদামটির ঠিকানা পায় পুলিশ।খবর পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স সেখানে হানা দিতেই রীতিমতো চক্ষু চড়ক গাছ হয়ে যায় তদন্তকারীদের। আফিম তৈরির প্রায় চার হাজার কেজি কাঁচামাল মজুত করা ছিল গুলশান কলোনির সেই গুদামটিতে, যার বাজার মূল্য ৪০ কোটি টাকার বেশি। এই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারকে কলকাতা পুলিশের সাফল্য হিসেবেই দেখছেন প্রত্যেকে।
