
#রাজীব চক্রবর্তী, নয়াদিল্লি: শতাব্দী প্রাচীন বহু ফাইল এবং ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামের বাতিল অংশ বিক্রি করে সরকারের আয় হয়েছে আড়াইশো কোটির বেশি টাকা। জানালেন পার্সোনাল, পাবলিক গ্রিভান্স মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং।
গত ২ অক্টোবর সরকারের বিভিন্ন দফতরে স্বচ্ছতা অভিযান শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজধানী দিল্লির মন্ত্রকগুলির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরকারি দফতরগুলিতে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে পার্সোনেল, পাবলিক গ্রিভান্স মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, শুধুমাত্র দেশের রাজধানী দিল্লিতে নয়, বিভিন্ন রাজ্য, বৈদেশিক মিশন, পোস্ট অফিস, রেল, প্রতিরক্ষা, কৃষি এমনকী, রাজভবনগুলিতেও এই অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে অবশিষ্টাংশ, ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশের অংশ, অপ্রয়োজনীয় ফাইল এবং নথি সরিয়ে ফেলা হয়েছে তিন সপ্তাহ ধরে। ৪০ লক্ষ ফাইল সরিয়ে ৩৭ লক্ষ ১৯ হাজার বর্গফুট এলাকা মুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জিতেন্দ্র সিং।
তাঁর কথায়, পুরনো ফাইল এবং অন্যান্য ফেলে দেওয়ার সামগ্রী বিক্রি করে সরকারের আয় হয়েছে ২৫৪ কোটি ২১ লক্ষ টাকা। দেশের মোট ৬৮ হাজার ৩৬৩টি জায়গায় এই স্বচ্ছতা অভিযান চালানো হয়। তারমাধ্যমে ৪০ লক্ষ ৫২ হাজার ফাইল সরিয়ে ফেলে বিপুল পরিমাণ সরকারি জায়গাকে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। এছাড়াও ৩ লক্ষ ৫ হাজার ২৬৮টি অভিযোগ, সাংসদদের ৫ হাজার ৪১৬টি সুপারিশে জবাব দেওয়া হয়েছে। ৫৮৮টি অপ্রয়োজনীয় বিধি লুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জিতেন্দ্র সিং। মোট ১৭ হাজার ৭৬৭টি পোস্ট অফিস এবং রেলের ৭ হাজার ২৮টি স্টেশনে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। তবে সমস্ত সামগ্রী বিক্রি করে দেওয়া হয়নি। বেশ কিছু সামগ্রীকে কাজে লাগিয়ে নানান শৌখিন জিনিস গড়ে তোলা হয়েছে। বেঙ্গালুরুতে পুরনো প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে একটি মূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও গুন্টুর স্টেশনে একটি আস্ত রেল কোচকে রেস্তোরাঁয় পরিণত করা হয়েছে।
সরকারের বাতিল করে দেওয়া এই সমস্ত সামগ্রীকে যাতে কাজে লাগিয়ে নানান শৌখিন জিনিস গড়ে তোলা যায় তার জন্য প্রশিক্ষণ শিবির তৈরি করেছে নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রক। বাতিল করে দেওয়া সামগ্রী থেকে কিভাবে শৌখিন জিনিস তৈরি করা যায় তার প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। কলকাতার জিপিও তাদের কার্যালয় মুক্ত করে সেখানে পার্সেল ক্যাফে তৈরি করেছে।
