আজব কাণ্ড! এখানে রাতে আলো নয়, অন্ধকার খুঁজছেন অনেকে, কারণ শুনলে চমকে যাবেন!

আজব কাণ্ড! এখানে রাতে আলো নয়, অন্ধকার খুঁজছেন অনেকে, কারণ শুনলে চমকে যাবেন!

#বর্ধমান: আশ্চর্য কাণ্ড! রাতে আলো নয়,অনেকেই চাইছেন অন্ধকার। সে কারণে কেউ কেউ পথ বাতি ঢেকে দিচ্ছেন চটের বস্তা দিয়ে। আবার কোথাও কেটে দেওয়া হয়েছে পথ বাতির কানেকশন। অনেক জায়গায় আবার পথ বাতি খুলে নেওয়া হয়েছে। ভেঙেও দেওয়া হয়েছে। চাহিদা একটাই। আলো নয়, অন্ধকার। পূর্ব বর্ধমানের গুসকরায় এমনটি ঘটেছে। কেন এমন অদ্ভুত চাওয়া?

নামে পুর শহর হলেও গুসকরা পুরসভার এক ও দু নম্বর ওয়ার্ডে বেশ কিছু ধান জমি রয়েছে। সারা রাত আলো জ্বলায় রাস্তার ধারের ধান জমিতে শিষ আসছে না। তাতেই মাথায় হাত পড়েছে চাষীদের। অন্ধকার খুঁজতে তাই পথ বাতি জ্বলা বন্ধ করতে চাইছেন তাঁরা। পুর প্রধান কুশল মুখোপাধ্যায় বলেন, এলাকার বাসিন্দাদের সুবিধার জন্যই পথ বাতি লাগানো হয়েছিল। কিন্তু সেই বাতিগুলি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে বা খুলে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ এসেছে। এ ব্যাপারে এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলা হবে।

কৃষি বিজ্ঞানীরা বলছেন, ধানের ভালো ফলন পেতে দিনের আলোর মতোই রাতের অন্ধকারও প্রয়োজন। ধান গাছের শিষ আসার জন্য আলোক দশা ও অন্ধকার দশা দুইই জরুরি। তা না হলে ধান গাছের শিষ আসতে দেরি হতে পারে। তাতে ফলন মার খাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, ধান হল আলোক সংবেদনশীল উদ্ভিদ। ধান গাছের শিষ আসার জন্য আলোক দশার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের অন্ধকার দশাও প্রয়োজন। শুধু  শিষ আসাই নয়, সেই শিষ পুষ্ট হওয়ার জন্যও অন্ধকার দশা প্রয়োজন।

কৃষকরা বলছেন, প্রথমে শিষ না আসার জন্য ধান বীজের গুণমান নিয়ে সন্দেহ করা হচ্ছিল। কিন্তু তারপর লক্ষ্য করে দেখা গেল একই জমিতে দু’রকম প্রভাব পড়ছে। যেখানে রাতে আলো পড়ছে শুধু সেই এলাকাতেই ধানের শিষ নেই। রাতে অন্ধকার না থাকার জন্যই এই ঘটনা ঘটেছে। তাই অনেকে আলোবন্ধ করে দিচ্ছেন।পথ বাতি বন্ধ করতেই শিষ আসতে শুরু করেছে।

(Feed Source: news18.com)