
চলতি বছরের এপ্রিলেই ২০.৫ মিলিয়ন মানুষ চাকরি হারিয়েছেন আমেরিকায়। এক ধাক্কায় বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪.৭ শতাংশ। দ্য গ্রেট ডিপ্রেশনের পর আর এমন পতন দেখেনি বাইডেনের দেশ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংখ্যা দিয়ে আসল চিত্রটা বোঝা যাবে না। কারণ আরও বেশি সংখ্যক মানুষ চাকরি হারিয়েছেন।
চাকরি হারিয়ে আর্থিক নিরাপত্তায় ভুগছেন অনেকেই। ইলেকট্রিক বা ফোনের বিল দেওয়া তো দূরের কথা আহার জোটাতেই হিমশিম অবস্থা। তবে আশার কথা হল, এই অস্থির সময়েও রোজগারের বিকল্প উপায় আছে। অনেক পেশাদারই আয় বাড়াতে অনলাইনে ব্যবসা করছেন। তাই চাকরি হারালেও যাতে পেটের ভাত যোগাড় হয় সেরকম কিছু অনলাইন বিজনেস আইডিয়ার সুলুকসন্ধান দেওয়া হল এখানে।
ফ্রিলান্সিং বিজনেস: গিগ অর্থনীতি ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। আর এই অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ফ্রিলান্সাররা। অনুমান করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় ৮৭ মিলিয়ন আমেরিকানের রুটিরুজি যোগাড় হবে ফ্রিলান্সিংয়ের মাধ্যমে। অর্থ উপার্জনের বিস্তৃত দিগন্ত খুলে যাচ্ছে অনলাইনেই। লেখা, কোড করা, লোগো ডিজাইন, ডেটা লেখার দক্ষতাকে পুঁজি করে ঝাঁপিয়ে পড়া যায়। আপওয়ার্ক, ফিভার, গুরু, টপটালের মতো ফ্রিলান্স মার্কেটপ্লেসগুলো সাহায্য করার জন্য মুখিয়ে আছে।
রিসেলিং বা পাইকারি: উভয় কৌশলই লাভজনক হতে পারে। রিসেলিংয়ে অল্প কিছু আইটেম কিনে বিক্রি করা হয়। সেখানে পাইকারি বিক্রির জন্য প্রচুর আইটেম কিনতে হবে। ছোট থেকে শুরু করা যায়। বাড়িতে আর ব্যবহার করা হয় না এমন জিনিস অ্যামাজন বা ই-বে-র মতো প্ল্যাটফর্মে ডিসকাউন্ট সহ বিক্রি করা যেতে পারে। পাইকারি ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্সের প্রয়োজন।
ই-বুক লেখা এবং বিক্রি: প্রত্যেকেই কিছু জিনিসে পারদর্শী। কিছু জিনিসে ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকে। সেই বিষয়ের উপর ই-বুক লিখে ভাল টাকা উপার্জন করা যায়। অ্যামাজন বা অন্যান্য অনলাইন বইয়ের দোকানে ই-বুক সহজে বিক্রি করা যায়। সম্পাদক এবং বইয়ের প্রচ্ছদ ডিজাইনার পাওয়া যাবে আপওয়ার্ক বা ফিভারের মতো প্ল্যাটফর্মে। বিপণনের জন্য অনেক প্রকাশক ট্যুইটার, রেডডিট, ইনস্টাগ্রামে প্রচার করেন।
ফেসবুক বিজ্ঞাপন এবং এসইও সহায়তা: কোম্পানিগুলো অনলাইনে গ্রাহকদের টানতে নিত্যনতুন উপায় খুঁজছে। তাদের জন্য ফেসবুক বিজ্ঞাপন লিড তৈরির একটি জনপ্রিয় উপায়। অন্য দিকে, কোম্পানিগুলি ওয়েবপেজ র্যাঙ্কিং বাড়ানোর জন্য এসইও-তেও প্রচুর বিনিয়োগ করছে। যাঁরা ফেসবুক বিজ্ঞাপন এবং এসইও তৈরি করতে জানেন তাঁরা কোম্পানিগুলোকে এই বিষয়ে সাহায্য করে মাস গেলে ভাল টাকা আয় করতে পারেন।
ড্রপশিপিংয়ে বিনিয়োগ: রিসেলিং এবং পাইকারির বিপরীতে ড্রপশিপিং ইনভেন্টরি পরিচালনা ছাড়াই পণ্য বিক্রয় করতে দেয়। এক্ষেত্রে ই-কমার্স স্টোর তৈরি করে নিজের পণ্যের পাশাপাশি অন্যের পণ্যও বিক্রি করা যায়। সেখান থেকে আরেকটি কোম্পানি ম্যানুফ্যাকচারিং এবং শিপিং পরিচালনা করবে। এতে খরচ খুব কম। যদিও পণ্যের মান নিয়ে সমস্যা হতে পারে। তাই বিশ্বস্ত বিক্রেতাদের সঙ্গেই কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তাহলেও ড্রপশিপিং ব্যবসা সফল হবে।
