
রেল বা জাতীয় সড়কের মতো কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হলে, কেন্দ্রের নতুন আইন মেনেই যাবতীয় ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। জমি অধিগ্রহনে ক্ষতিপূরণ নিয়ে আপত্তি সংক্রান্ত একাধিক মামলায় এই নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের।
৩০ নভেম্বর এই নির্দেশ দেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে যত জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে বা তার আগে অধিগ্রহণ করা হলেও, যার দাম মেটানো হয়নি ওই সময়ের মধ্যে, তাদেরকেই ২০১৩ সালের নতুন আইনে ক্ষতিপূরণ সহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। এক্ষেত্রে রাজ্য সরকার কোনও আপত্তি করতে পারবে না। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এই নির্দেশ দীর্ঘ দিনের জমি অধিগ্রহণ ক্ষতিপূরণ নিয়ে জটিলতা কাটার ক্ষেত্রে একটি দিশা দেখাবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। আর সে ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে আপত্তি জানিয়ে রাজ্যের বারে বারে নাক গলানোর সুযোগ খর্ব হবে বলেও আশা জমি দাতাদের।
উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙ্গার হিসাবী ও মুর্শিদাবাদের আঁধারমানিক ও বাসুদেবখালি মৌজার অধিগৃহিত জমির মালিকরা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। তাদের অভিযোগ, নতুন আইনে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি জাতীয় সড়কের জন্য নেওয়া ওই জমির জন্য। এমনকি জমির যে দাম দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে আপত্তি জানালেও তাদের আরবিট্রেশনের জন্যও ডাকা হয়নি।
বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের নির্দেশ, ওই জমিদাতাদের ডেকে ছ’মাসের মধ্যে তাদের আপত্তি শুনে সমস্যার সমাধান করতে হবে। একই সঙ্গে আদালতের আরও স্পষ্ট নির্দেশ, প্রতিটি জমিদাতার সঙ্গে কথা বলে প্রত্যেকের সমস্যার আলাদা আলাদা ভাবে সমাধান করতে হবে। গণহারে বা কয়েকজনকে নমুনা হিসেবে নিয়ে তাদের প্রতি দেওয়া নির্দেশে বাকিদের ক্ষেত্রে কার্যকর করা যাবে না। রাজ্যের আইনজীবী চণ্ডীচরণ দে বলেন, আদালত যা নির্দেশ দেবে তা সরকার মেনে নেবে।
জমিদাতাদের তরফে আইনজীবী অরিন্দম দাস জানান, “রাজ্য কেন্দ্রের নতুন আইন কার্যকরের ক্ষেত্রে বিধি তৈরি করেনি। তাই এখানে কেন্দ্রীয় আইনের সবকটি ধারা ব্যবহারের সুযোগ ছিল না। যা নিয়ে জটিলতা দীর্ঘ দিনের। কিন্তু হাইকোর্টের এই নতুন নির্দেশে অন্তত এখন থেকে কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হবে, তারা নতুন আইনের সব ধারা মেনেই ক্ষতিপূরণ ও সুযোগ সুবিধা পাওয়ার অধিকার হিসেবে চিহ্নিত হবেন।”
