
লন্ডন : চলছিল নির্মাণকাজ। খোঁড়াখুঁড়ির সময় সেখান থেকেই বেরিয়ে এল ১৩০০ বছরের পুরনো সোনার নেকলেস। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ইংল্যান্ডের। জানা গিয়েছে অ্যাংলো স্যাক্সন যুগের সমকালীন একটি সমাধিক্ষেত্রে কাজ চলছিল। মিউজিয়ম অব লন্ডন আর্কিওলজির বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, সোনার উপর সেমি প্রেশাস পাথর খোদাই করা ওই কণ্ঠহার অ্যাংলো স্যাক্সন যুগের অন্যতম সেরা আবিষ্কার।
৬৩০ থেকে ৬৭০ খ্রিস্টাব্দ মধ্যবর্তী সময়ে তৈরি এই কণ্ঠহারকে জীবনের বিরলতম ঐতিহাসিক আবিষ্কার বলে মন্তব্য পুরাতাত্ত্বিকদের। ব্রিটেনে এই ধরনের যা যা আবিষ্কার হয়েছে, তার মধ্যে এটাই সমৃদ্ধতম বলে মত তাঁদের। অনন্ত ৩০ টি লকেট দিয়ে সাজানো হয়েছে কণ্ঠহারটি। সোনার চেন জুড়ে রয়েছে রোমান মুদ্রা, গার্নেট, কাচ ও দামী পাথরে তৈরি পেন্ড্যান্টে সুসজ্জিত নেকলেসটি। ইংল্যান্ডের নর্দাম্পটন এলাকার কাছে আবিষ্কৃত এই কণ্ঠহারের ঠিক মাঝখানে রয়েছে চৌকো লকেট। লাল গার্নেটের ওই লকেটে আছে লাল গার্নেট। ঠিক কেন্দ্রে ক্রস মোটিফ। তবে এই লকেটটি আদতে অনেক বড় ছিল বলে ধারণা পুরাবিদদের।
যাদুঘর কর্তৃপক্ষের দাবি, যে সমাধিক্ষেত্র থেকে এই অলঙ্কার পাওয়া গিয়েছে, সেখানে অভিজাত পরিবারের নারীদেরই, বিশেষ করে রাজপরিবারের মহিলাদের কবর দেওয়া হত। অলঙ্কার ছাড়াও মিলেছে পুরনো বাসনপত্র। মিউজিয়ম অব লন্ডন আর্কিওলজি-র তরফে সাইট সুপারভাইজার লভন্ত বেন্সে বালাজস জানিয়েছেন “ভূমির সঙ্গে প্রথম বার সোনার চিহ্ন দেখেই আমরা বুঝতে পারি এটা উল্লেখযোগ্য কিছু হতে চলেছে। তবে এর বিশেষত্ব যে এত গভীর, সেটা তখন উপলব্ধি করতে পারিনি।”১৩০০ বছরের প্রাচীন কোনও অভিজাত নারীর এই অলঙ্কারের নকশা দেখে অভিভূত আধুনিক প্রজন্ম। কণ্ঠহারের মূল লকেটে রুপোর উপর একটি অদ্ভুতদর্শন মানবমুখ খোদাই করা আছে বলে জানা গিয়েছে। এই আবিষ্কার সেই যুগ সংক্রান্ত গবেষণায় নতুন দিক নির্দেশ করবে বলেই ধারণা ঐতিহাসিকদের।
