৬০-এ পৌঁছানোর আগে কি স্ট্রোকের আশঙ্কা? বলবে রক্তের গ্রুপই! শুনুন বিশেষজ্ঞের কথা

৬০-এ পৌঁছানোর আগে কি স্ট্রোকের আশঙ্কা? বলবে রক্তের গ্রুপই! শুনুন বিশেষজ্ঞের কথা

নতুন একটা সমীক্ষায় চাঞ্চল্যকর এক তথ্য উঠে এসেছে। তাতে জানা গিয়েছে যে, অকালে স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না, সেটা বলে দেবে আমাদের রক্তের ধরন বা রক্তের গ্রুপই! কিন্তু এর ব্যাখ্যাই বা কী? বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, যখন ইস্কেমিক স্ট্রোক হয়, তখন মস্তিষ্কের কিছু অংশে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত বা বাধাপ্রাপ্ত হয়। যার ফলে মস্তিষ্কের কলাকোষে অক্সিজেন এবং নিউট্রিয়েন্ট পৌঁছয় না। আর এর জেরে কয়েক মিনিটের মধ্যেই মস্তিষ্কের কোষের মৃত্যু ঘটতে পারে।

আর এই গবেষণার জেরে চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক নতুন দিশা চলে আসবে। যা যুবক-যুবতীদের মধ্যে স্ট্রোকের আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা বুঝতে সাহায্য করবে। আর গবেষণায় যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়েছে নিউরোলজিতে।

রক্তের ধরন আসলে কী?

রক্তের ধরন বলতে বোঝায় অ্যান্টিবডি এবং বংশগত ভাবে প্রাপ্ত অ্যান্টিজেন সম্পর্কিত উপাদানের মতো রাসায়নিকের উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণিবিন্যাস। মানবদেহে মোট চার ধরনের রক্তের গ্রুপ রয়েছে। যথা – এ, বি, এবি এবং ও। আমাদের রক্তের গ্রুর নির্ভর করে জিনের উপর। যা আমরা আমাদের মা-বাবার থেকে পেয়ে থাকি।

গবেষণাটি সম্পর্কে কয়েকটি বিষয়:

উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ায় জেনেটিক্স এবং ইস্কেমিক স্ট্রোকের উপর ৪৮টি সমীক্ষা চালিয়েছেন গবেষকেরা। এই সমীক্ষায় যোগ দিয়েছিল প্রায় ১৬ হাজার ৯২৭ জন মানুষ, যাদের স্ট্রোক হয়েছে। এদের পাশাপাশি সমীক্ষায় যোগ দিয়েছিল এমন ৫ লক্ষ ৭৬ হাজার ৩৫৩ জন মানুষ, যাদের স্ট্রোক হয়নি। যাঁদের স্ট্রোক হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৫ হাজার ৮২৫ জনের আগেই অর্থাৎ ৬০ বছর বয়স হওয়ার আগেই স্ট্রোক হয়ে গিয়েছিল। আর এর মধ্যে বাকি ৯ হাজার ২৬৯ জনের স্ট্রোক হয়েছে ৬০ বছর বয়স পার করার পরে।

কাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি সব থেকে বেশি?

রক্তের ধরন কিংবা রক্তের গ্রুপ বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা জেনেছেন যে, যাঁদের রক্তের গ্রুপ এ, তাঁদেরই মূলত ৬০ বছর বয়সের আগেই স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। গবেষকদের দাবি, এ১ সাবগ্রুপ এবং অকালে স্ট্রোকের জন্য দায়ী জিনের একে অপরের সঙ্গে একটা যোগসূত্র রয়েছে।

যাঁদের ব্লাড গ্রুপ-এ, তাঁরা উচ্চ ঝুঁকির আওতায় কেন?

মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কুলার নিউরোলজিস্ট এবং এই গবেষণাপত্রের সিনিয়র লেখক স্টিভেন কিটনার জানাচ্ছেন যে, “এটা আমরা এখনও বুঝে উঠতে পারছি না যে, কেন ব্লাড গ্রুপ-এ উচ্চ ঝুঁকির আওতায় পড়ছে। এর সঙ্গে প্লেটলেট-সহ নানা ব্লাড ক্লটিং বা রক্ত জমাট বাঁধার বিষয়ের একটা যোগসূত্র থাকতে পারে।”

আবার বাল্টিমোরের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ মেডিসিনের এমপিএইচ, পিএইচডি তথা গবেষণাপত্রটির লেখক ব্রাক্সটন ডি. মিচেল জানাচ্ছেন, “নির্দিষ্ট ভাবে বলতে গেলে আমাদের মেটা-অ্যানালিসিস থেকে জানা যাচ্ছে যে, ব্লাড গ্রুপ এ এবং ও-র সঙ্গে যুক্ত জিনের ভ্যারিয়েন্টগুলি থেকে বোঝা যায় যে, তা সময়ের আগেই স্ট্রোকের ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের জিন ভ্যারিয়েন্টগুলি যাঁরা বহন করছেন, তাঁদেরই রক্ত জমাট বেঁধে স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা সব থেকে বেশি।” গবেষকরা ওই গবেষণা থেকে আরও জানতে পেরেছেন যে, যাঁদের জিনোম ব্লাড গ্রুপ এ-র ভ্যারিয়েশনের জন্য কোডেড রয়েছে, তাঁদের ৬০ বছর বয়সের আগেই স্ট্রোকের ঝুঁকি অন্যান্য ব্লাড গ্রুপের রক্ত বহনকারীদের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি।

(Feed Source: news18.com)