ডিজিটাল ইন্ডিয়ার প্রতি দায়বদ্ধতা! এবারের বাজেট কীভাবে প্রভাবিত করবে দেশকে!

ডিজিটাল ইন্ডিয়ার প্রতি দায়বদ্ধতা! এবারের বাজেট কীভাবে প্রভাবিত করবে দেশকে!

কলতাতা: বুধবার সংসদে দাঁড়িয়ে ২০২৩-২৪ সালের সাধারণ বাজেট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তাঁর বক্তৃতায় উঠে এসেছে অনেক বড় ঘোষণা। তার মধ্যে অনেকটা জায়গা জুড়ে প্রযুক্তি। এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথাও। এই খাতে কী কী পরিবর্তন ঘটতে চলেছে এবং কী ভাবে তা সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলবে তা দেখে নেওয়া যাক এক নজরে।

২০২৩ সালের এই সাধারণ বাজেটে ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম কমার ইঙ্গিত মিলেছে। দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদন ইউনিটকে উৎসাহিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

পাশাপশি মোবাইল ম্যানুফ্যাকচারিং এবং ক্যামেরা লেন্সের মতো ইলেকট্রনিক পণ্যেও ছাড় মিলবে। ফলে স্মার্টফোন ও এলইডি টিভির খরচ কমবে। কমতে পারে ল্যাপটপের আরও কিছু গ্যাজেটের দাম।

একই সঙ্গে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারিতে আরও এক বছরের জন্য ছাড় দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আর এসব কিছুই যে আরও প্রযুক্তিগত উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ইন্টারনেট পরিষেবা উন্নততর করার লক্ষ্যেও কাজ করতে চাইছে কেন্দ্র। ডিজিটাল ইন্ডিয়া উদ্যোগকে শক্তি জোগাতে ৫জি অ্যাপের জন্য ১০০টি ল্যাব তৈরি করা হবে বলেও ঘোষণা করেছেন নির্মলা।

এই ল্যাবগুলিতে ৫জি পরিষেবার জন্য অ্যাপ তৈরি করা হবে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ, উদ্ভাবন এবং গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এই ল্যাবগুলিকে ইনকিউবেটর হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

এবারের বাজেটে প্রায় স্পষ্ট ভাবেই জোর দেওয়া হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর। ভারতকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে দেশে তিনটি উৎকর্ষ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে এসব ল্যাব স্থাপন করা হবে। এই ল্যাবগুলির লক্ষ্য একটি নতুন পরিসরের সুযোগ, ব্যবসায়িক মডেল এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি করা। সেই সঙ্গে থাকছে স্মার্ট ক্লাসরুম, নির্ভুল চাষ, উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা অ্যাপ্লিকেশনগুলি।

অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট ভাষণে স্পষ্টই বলেছেন, ‘মেক এআই ইন ইন্ডিয়া এবং মেক এআই ওয়ার্ক ফর ইন্ডিয়া’-এর দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে, দেশের অর্থনীতির সম্ভাবনা উন্মোচন করার জন্য বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ করা হবে। সে বিষয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্কিল ইন্ডিয়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম-এর কথাও ঘোষণা করেছেন নির্মলা। বলা হয়েছে, এটি চাহিদা-ভিত্তিক আনুষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি করবে। এমএসএমই-সহ নিয়োগকারীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে এবং তিন বছরে প্রায় ৪৭ লক্ষ যুবক-যুবতীদের কাজের সুযোগ করে দেব। সরকার জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স নীতিও আনবে।

এ বিষয়ে উচ্ছ্বসিত ওয়াকিবহাল মহল। এমফিলটারআইটি-এর প্রতিষ্ঠাতা, সিইও অমিত রেলান, নিউজ ১৮-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এআই দেশের চেহারা পরিবর্তন করে দেবে। দেশ ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’-এর শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করতে সাহায্য করবে৷ দক্ষতা বৃদ্ধি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের উন্নতি করবে।

ইকোনমিক ল প্র্যাকটিস-এর পার্টনার সঞ্জয় নোটানি নিউজ১৮-কে বলেছেন, এই নীতির লক্ষ্য ডেটা গভর্ন্যান্স ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সারিতে ভারতকে তুলে আনা। যা প্রযুক্তির রফতানি সহজতর করবে।

(Feed Source: news18.com)