
কলকাতা : এক ভুলেই পাল্টে গেল লিঙ্গ পরিচয়! জন্ম হয়েছিল শিশুপুত্রের। কিন্তু জন্ম শংসাপত্রে লেখা শিশুকন্যা। আর এর জেরেই দুধের শিশুকে যেতে হলো সরকারি হোমে। চরম হয়রানির শিকার হতে হল এক দম্পতিকে। নিজের শিশুকে ফিরে পেতে রীতিমতো কালঘাম ছুটছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কুলপির দম্পতিকে।
পরিবারের দাবি, গত বৃহস্পতিবার কুলপির করঞ্জলির বাসিন্দা রুমা হালদার নার্সিংহোমে এক শিশুপুত্রের জন্ম দেন। জন্মের পর মেলে জন্মের শংসাপত্রও। কিন্তু পরিবার খেয়াল করেননি তাতে কন্যাসন্তানের উল্লেখ রয়েছে। এর পর শিশুর শারীরিক অবস্থার খানিক অবনতি হলে, ওই সপ্তাহেই নার্সিংহোমের শিশু চিকিৎসকদের পরামর্শে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। শিশুর মা ছাড়াই শিশুর বাবা স্বপন হালদার এন আর এস হাসপাতালে নিয়ে আসেন শিশুটিকে। সঙ্গে জন্মের ভুল শংসাপত্র ছাড়া ছিল না অন্য কোনও পরিচয় পত্রও। অভিযোগ এর জেরে চিকিৎসা শুরু হতে খানিক দেরিও হয়।
অবশেষে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবেই শিশুটির চিকিৎসা শুরু করে এনআরএস হাসপাতাল। এর পর এনআরএস হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসায় শিশু সুস্থ হয়ে উঠলে সঠিক নথির অভাবে শিশুটিকে পরিবারের হাতে তুলে দিতে অস্বীকার করে হাসপাতাল। হাসপাতালের তরফে যোগাযোগ করা হয় স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে। লিঙ্গ পরিচয়ের বিভ্রাটের জেরে পুলিশের তরফে ওই শিশুকে তুলে দেওয়া হয় সরকারি হোমে।
এদিকে শিশুর পরিবার শিশুকে না পেয়ে উদ্বিঘ্ন হয়ে ওঠে। শিশুর পরিবারের তরফে সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমের ভুল জন্মের শংসাপত্রের ক্ষমাপত্র-সহ পুলিশের দ্বারস্থ হয়। নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের তরফে এক আধিকারিক জানিয়েছেন ” সঠিক নথি থাকলে আমাদের পরিবারের হাতে তুলে দিতে কোনও অসুবিধা ছিল না। কিন্তু পরিবার চিকিৎসা শুরুর সময় থেকে সঠিক নথি দিতে পারেননি। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
শিশুর বাবা স্বপন হালদার জানান ” আমরা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি। পুলিশ সহযোগিতা করেছে। আশা করছি এবার আমাদের শিশুকে আমরা ফিরে পাব। “
