রাস্তায় ঘুরে ঘুরে মেয়েরা মারেন বেত, তাতেই নাকি বিয়ে হয়ে যায় অবিবাহিত পুরুষের!

রাস্তায় ঘুরে ঘুরে মেয়েরা মারেন বেত, তাতেই নাকি বিয়ে হয়ে যায় অবিবাহিত পুরুষের!

যোধপুর: একদিনের জন্য গোটা নগরীর দখল নেন মহিলারা। মারধর করেন পুরুষদের। আর তাতে খুশি সকলেই। এমন অদ্ভুত উৎসব দেখা যায় রাজস্থানের যোধপুরে।

এ হল যোধপুরের ঐতিহ্যবাহী ধিঙ্গা গাওয়ার মেলা, যেখানে মেলার দিনে নারীদের রাজত্বই চলে সারা শহরে। মহিলারা বেত দিয়ে পুরুষদের পেটান। নারী ক্ষমতায়নের এই অনন্য নজির দেখা যায় মাড়োয়ার প্রদেশে।

এই মেলার ঐতিহ্য অনুসারে, যোধপুরে রাত ১০টায় নারীরা বিভিন্ন ছদ্মবেশে রাস্তায় নেমে আসেন। কেউ ডাক্তার, কেউ সৈনিক, কেউ পুলিশ, কেউ জাট হয়ে ওঠেন। রাস্তায় যে কোনও পুরুষ নজরে পড়লেই আর রক্ষা নেই। ওই মহিলার হাতে মার তাঁকে খেতেই হবে। বিশেষ করে যাঁরা অবিবাহিত। লোকবিশ্বাস এই বেতের বাড়ি খেলেই বিয়ে হয়ে যাবে। তাই দূরদূরান্ত থেকে অবিবাহিত পুরুষেরা এখানে আসেন বেত খেতে।

এলাকার বাসিন্দারা সারা বছর অপেক্ষা করে থাকেন এই বেত পেটানো মেলার জন্য, অধীর আগ্রহে। এই মেলায় নারীর ক্ষমতায়নের এক অনন্য উদাহরণ। প্রতি বছর চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে ধিঙ্গা গাওয়ার মেলা পালিত হয়। ধিঙ্গা গাওয়ারের একটি বিশেষত্ব হল যে, বিবাহিত এবং বিধবা মহিলা উভয়েই ধিঙ্গা গাওয়ার পূজা করতে পারেন। এখন কুমারী মেয়েরাও ধিঙ্গা গাওয়ার পুজো করেন। বিধবা মহিলারা পরিবারের সুখ ও শান্তির জন্য পূজা করেন, আর বিবাহিত মহিলারা তাঁদের স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনা করে ধিঙ্গা গাওয়ার পুজো করেন। অবিবাহিত মেয়েরা ভাল বরের পাওয়ার জন্য ধিঙ্গা গাওয়ার পুজো করেন।

পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, মাতা পার্বতী একদিন ভগবান শিবকে খুশি করার জন্য একটি ভিন্ন রূপ ধারণ করেছিলেন। ভগবান শিব সেই রূপ দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে তিনি তাঁকে মর্ত্যভ্রমণে তাঁর সঙ্গে নিতে রাজি হয়েছিলেন। কথিত আছে যে এই কারণেই ধিঙ্গা গাওয়ার পুজো শুরু হয়। সুপ্রাচীন কাল থেকে এই পুজো চলে আসছে। ধিঙ্গা গাওয়ার শব্দের ধিঙ্গার মানে প্রতারণা। গাওয়ার গঙ্গৌর অর্থাৎ মা পার্বতীর নাম থেকে এসেছে। ১০ দিন আগে থেকে চলে এই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি।

উৎসব উপলক্ষ্যে শহরের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয় গাওয়ার। সেগুলি বিশেষভাবে সাজানো হয়। স্বর্ণকার বসতি এলাকায় এই গাওয়ার সাজানো হয় সোনা দিয়ে। এবছর ৪ কেজি ৮০০ গ্রাম সোনা দিয়ে সাজানো হয়েছে এই গাওয়ার। যার দাম প্রায় ১০ কোটি টাকার বেশি। শহরের অনেক জায়গাতেই সোনা দিয়ে সাজানো গাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।

(Feed Source: news18.com)