
নয়াদিল্লি: বুধবার রায়গড়ের স্টুডিও থেকে আর্ট ডিরেক্টর নিতিন চন্দ্রকান্ত দেসাইয়ের (Nitin Chandrakant Desai) নিথর দেহ উদ্ধার হয়। সম্প্রতি ২৫২ কোটি টাকার ঋণখেলাপের (defaulted on a Rs 252-crore loan) অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই নিয়ে গত সপ্তাহেই তাঁর সংস্থাকে দেউলিয়া (insolvency) ঘোষণার আবেদন জমা পড়ে আদালতে। ২০১৬ ও ২০১৮ সালে দুই কিস্তিতে তাঁর সংস্থা টাকা ধার নেয় এবং ২০২০ সাল থেকে তা শোধ করতে গিয়ে হিমশিম খায় বলে খবর।
২৫২ কোটি টাকার ঋণখেলাপের অভিযোগ ওঠে নিতিন দেসাইয়ের বিরুদ্ধে
নিতিন দেসাইয়ের সংস্থা ‘এনডিস আর্ট ওয়ার্ল্ড প্রাইভেট লিমিটেড’ ২০১৬ ও ২০১৮ সালে, দুই কিস্তিতে ‘ইসিএল ফিনান্স’ নামক সংস্থা থেকে ১৮৫ কোটি টাকা ঋণ নেয়। কিন্তু ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে সেই টাকা শোধ দিতে হিমশিম খেতে শুরু করে।
বুধবার সকালে ‘এন স্টুডিও’র মধ্যেই দেসাইয়ের দেহ উদ্ধার হয়। মনে করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যাই করেছেন। যদিও ঠিক কোন কারণে এই সাংঘাতিক সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন তা এখনও জানা যায়নি। ‘লগান’, ‘দেবদাস’-এর মতো বিখ্যাত প্রজেক্টে কাজ করেছেন। মুম্বইয়ের উপকণ্ঠে খালাপুর তালুকে বিশাল স্টুডিও তৈরি করেন তিনি যেখানে ‘যোধা আকবর’-এর মতো ছবির শ্যুটিং হয়েছে।
তাঁর সংস্থা ‘এনডিস আর্ট ওয়ার্ল্ড’ বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শনের প্রতিলিপি সংগঠিত, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা এবং হোটেল, থিম রেস্তোরাঁ, শপিং মল এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত সুবিধা এবং পরিষেবা প্রদানের ব্যবসায় নিযুক্ত রয়েছে। ২৫ জুলাই, ‘ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল’-এর মুম্বই শাখা কর্পোরেট দেউলিয়া রেজোলিউশন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য ‘এডেলওয়েস অ্যাসেট রিকনস্ট্রাকশন কোম্পানি’র দায়ের করা একটি পিটিশন গ্রহণ করে।
উভয় পক্ষের শুনানির পর NCLT-এর সদস্য (বিচারক) এইচ ভি সুব্বা রাও এবং সদস্য (প্রযুক্তিগত) অনু জগমোহন সিংহ কর্তৃক গৃহীত আদেশ অনুসারে, জিতেন্দ্র কোঠারিকে অন্তর্বর্তীকালীন রেজোলিউশন পেশাদার হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। ‘এনডিস আর্ট ওয়ার্ল্ড’-এর ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া চলাকালীন কোঠারির হাতে থাকবে, নির্দেশে বলা হয়।
সাধারণত, তাঁদের নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয় যে যেন সমস্ত ঋণদাতারা সিকিউরিটিজ বিক্রি করে আদায়কৃত পরিমাণ অনুযায়ী তাদের বকেয়া পান এবং প্রতিদিনের ব্যবসায়িক ক্রিয়াকলাপগুলির যত্ন নেওয়া হয়।
অর্ডারে বলা হয়, ৩১ মার্চ ২০২১ সালে, ওই অ্যাকাউন্টকে ‘নন পারফর্মিং অ্যাসেট’ তালিকাভুক্ত করা হয় এবং ৩০ জুন ২০২২ পর্যন্ত ঋণখেলাপির পরিমাণ হয় মোট ২৫২.৪৮ কোটি টাকা। এর উত্তরে অর্ডার পাস করার আগে দেসাইয়ের সংস্থার তরফে জানানো হয় যে ৭ মে ২০২১ সালে একটি অগ্নিকাণ্ড ঘটে স্টুডিওয়। যার ফলে ওই প্রপার্টি ক্ষতির সম্মুখীন হয় এবং সেই একই দিনে রিকভারি নোটিস পাঠানোর জন্য ঋণদাতাদেরই দায়ী করে।
স্থানীয় সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, আর্থিক পাওনাদারেরা কয়েক মাস আগে ‘এনডি স্টুডিও’র দখল নিতে রায়গড়ের জেলা কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েছিলেন।
(Feed Source: abplive.com)
