
১৮ সেপ্টেম্বর গণেশ চতুর্থী। অনেকেই এদিন গণেশ আবাহন করবে গৃহে। কেউ বাড়িতে এলে তাঁকে যেমন কিছু খেতে দিয়ে আপ্যায়ণ করা হয়, দেবতার বেলাতেও সেই নিয়ম। গণপতিকে এক্ষেত্রে কী ভোগ দেওয়া যায়?
মোদক! এই বিশেষ মিষ্টান্ন গৌরীপুত্রকে যেমন প্রীত করে, তেমন আর কিছুই নয়। হবে না-ই বা কেন, সংস্কৃতে মোদকের অর্থই তো যা মনকে মোদিত করে।
কথা হল, এই মোদকও নানা স্বাদের হয়। আজকাল আবার অনেকে ছানা দিয়ে সন্দেশের পাক তৈরি করে তা মোদকের আকার দিয়ে বিক্রি করেন। কিন্তু শাস্ত্রমতে, গণেশের বিশেষ প্রিয় চালের গুঁড়োর মোদক।
সাবেকি এই মোদক বানানোর সহজ পদ্ধতি জেনে নেওয়া যাক এবারে।
উপাদান- একটি নারকেল, হাফ কাপ গুড় বা চিনি, ২ চা-চামচ পোস্ত, ৭-৮ এলাচ, ২ কাপ চালের গুঁড়ো বা ময়দা, ২ টেবিল চামচ ঘি, এক চিমটি নুন।
প্রণালী- নারকেল কুরিয়ে নিতে হবে। ওই নারকেল কোরা গুড় বা চিনি দিয়ে পাক দিতে হবে কড়ায় হালকা আঁচে। বাদামি হয়ে এলে পোস্ত আর এলাচগুঁড়ো মিশিয়ে দিতে হবে। হালকা আঁচেই ক্রমাগত তা নেড়ে যেতে হবে, নয় তো পাক চিটে হয়ে যাবে, কড়ায় ধরে যাবে। এই পাক একটু ঘন হবে, একেবারে ঝরঝরে হবে না। চাইলে চতুর্থীর আগের দিনেও এই পাক বানিয়ে ফ্রিজে রেখে দেওয়া যায়।
এবার একটা পাত্র আঁচে বসিয়ে তাতে দু’বাটি জল গরম করতে হবে। জলে দিতে হবে এক চিমটি নুন, এক চামচ ঘি। জল ফুটে উঠলে তাতে চালের গুঁড়ো বা ময়দা দিয়ে পাত্রটা ঢেকে দিতে হবে। সব জল শুষে গেলে নামাতে হবে আঁচ থেকে। এবার মিশ্রণটা একটু ঠাণ্ডা হলে হাতে ঘি মাখিয়ে নিয়ে তা মেখে নিতে হবে। ছোট ছোট বল বানিয়ে তার ভিতরে নারকেলের পুর দিয়ে সেটা মোদকের আকার দিতে হবে।
সব শেষে, একটা পাত্রে জল চড়িয়ে তার উপরে একটা সাদা কাপড় ঢাকা দিতে হবে। এর উপরে মোদকগুলো রেখে একটা ঢাকা চাপা দিয়ে ভাপিয়ে নিতে হবে মিনিট পনেরো। ঠান্ডা হয়ে গেলেই তা ভগবানকে নিবেদন করা যাবে।
