
বর্ষার পর রোদের দেখা মিলেছে গত কয়েক দিনে। এই বছরটি উত্তরাখণ্ডের জন্য বিশেষ। কারণ নৈনিতালের পাহাড়ি বাঁক ভরে উঠেছে বেগুনি রঙের জোন্টিলা ফুলে।
স্থানীয় ভাষায় জোন্টিলা বা জৌনিলা নামে পরিচিত এই ফুলটি প্রতি ১২ বছর অন্তর ফোটে। আর যেবছর এই ফুল ফোটে, সেই বছরই পিথোরাগড় জেলার চৌন্দাস উপত্যকায় পালিত হয় উৎসব— কান্দালি উৎসব। আসলে জৌনিলার আর এক নাম কান্দালি।
হিমালয় পর্বতের মাঝারি উচ্চতার পাহাড়গুলিতে এই ফুল ফোটে, তাও পাহাড়ের দক্ষিণ ঢালে। খাড়া পাহাড়ের ঢালে এখন বেগুনি রঙের সমারোহ। জোন্টিলার বিজ্ঞানসম্মত নাম অ্যাসিমেন্থেরা গোসিপিনা(Acimenthera gossypina)। এই গাছ সাধারণত দেড় থেকে দুই মিটার লম্বা হয়ে থাকে। কাণ্ডের রঙ সাদা।
জোন্টিলা গাছে ১২ বছর অন্তর একবার ফুল ফোটে। কাশ্মীর থেকে ভুটান পর্যন্ত হিমালয়ের মাঝারি পর্বতে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাড়ে সাত হাজার ফুট উচ্চতায় এর জন্ম। এই গাছের বিশেষ ঔষধি গুণও রয়েছে। এই গাছের শিকড় ডায়রিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। শুধু তাই নয়, উত্তরাখণ্ডের ডান্ডি এলাকার বাসিন্দারা এই গাছ থেকে দড়ি এবং জাল তৈরি করে নেন।
বিখ্যাত চিত্রগ্রাহক এবং পরিবেশবিদ পদ্মশ্রী অনুপ সাহ এই ফুলটি প্রথম সারা বিশ্বের সামনে নিয়ে এসেছিলেন। নৈনিতালের বিভিন্ন এলাকায় ফুটে থাকা ফুলটির পাঁচটি চক্র তাঁর ক্যামেরায় বন্দী হয়েছিল। অনুপ সাহ বলেছিলেন, তিনি প্রথম এই ফুলের দেখা পান ১৯৭৫ সালে, নৈনিতালের। তারপর থেকে তিনি নৈনিতাল এবং সংলগ্ন বনাঞ্চলে মোট পাঁচটি চক্রে এই ফুল দেখেছেন। শেষ ও পঞ্চমবার তিনি দেখেছিলেন যেখানে তিনি নৈনিতালের কাছে নারায়ণ নগর এবং বলদিয়াখানের জঙ্গলে। তিনিই জানিয়েছেন, জোন্টিলায় ফুল এলে প্রচুর মধু উৎপন্ন হয়।
আবার কবে, কোথায় ফুটবে জোন্টিলা?
অনুপ সাহ জানান, জোন্টিলা ১২ বছরের ব্যবধানে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন চক্রে বেড়ে ওঠে। চার বছর পর, জোন্টিলা দ্বিতীয় চক্রে রানিবাগ, দো গাঁও, ঘাটগড়, নৈনিতালের কাছে মাঙ্গোলির কাছাকাছি এলাকায় দেখা যাবে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই সব এলাকার উচ্চতা পাঁচ হাজার মিটারের কম। এখন নৈনিতাল এবং সংলগ্ন যেসব পাহাড়ে এই ফুল দেখা যাচ্ছে তাদের উচ্চতা ৫-৭ হাজার মিটার।
অগাস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত এই ফুলের মরশুম। সেপ্টেম্বরের শেষে বীজ আসবে। নভেম্বরের মধ্যে ফুল শুকিয়ে বীজ পড়ে যাবে। তা থেকে আবার গাছ জন্মাবে। আর ১২ বছর পর আসবে ফুল।
তবে জোন্টিলার মতোই আরও এক ধরনের গাছ এই পাহাড়ি প্রদেশে জন্মায়। আরও একটু বেশি উচ্চতায় ছায়াময় ও আর্দ্র পরিবেশে। তার নাম টেরাকেন্থাস (Pteracanthus) বা স্ট্রাবিলান্থাস (Strabilanthus)। একই প্রজাতির হলেও এই গাছে প্রতি বছর ফুল আসে। এই গাছে আকারে জোন্টিলার চেয়ে ছোট, পাতার আকারও আলাদা।
