
পশ্চিমি দেশ থেকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র আমদানি হলে, একসময় বিষাদে ডুবে যান একাকী মানুষজন। তাই যুগলদের চ্যালেঞ্জ করেই একরকম ভাবে ‘সিঙ্গলস ডে’-র সূচনা ঘটে চিনে। বর্তমানে এই দিনটি সেখানে কার্যত উৎসবে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর এই সময় চিনে অনলাইন বিক্রিবাটা হাজার গুণ বেড়ে যায়। নিজেদের খুশি করতে দেদার কেনাকাটা করেন সেখানকার একাকী মানুষজন। (Singles’ Day in China)
১৯৯৩ সালে চিনের নানজিং ইউনিভার্সিটিতে একাকী দিবসের সূচনা ঘটে। গোড়ার দিকে এই দিনটিকে ‘ব্যাচেলর্স ডে’ বলা হতো। কারণ সেই সময় শুধুমাত্র পুরুষদের মধ্যেই এই দিনটি জনপ্রিয় ছিল। পরে একাকী মহিলারাও যোগদান করতে শুরু করেন। এই দিনটিতে নিজেই নিজেকে উপহার দিতেন একাকী মানুষজন, নিজেদের মধ্যে পৃথক সমাবেশও করতেন, পার্টি হতো। বর্তমানে সেই রীতির বিস্তার ঘটেছে দেশের সর্বত্র।
চিনের অর্থনীতিতেও বিরাট ভূমিকা রয়েছে এই একাকী দিবসের। ২০২২ সালের একাকী দিবসে দেশের মানুষজন ১৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের কেনাকাটা করেন। উৎসবের মরশুমে একদিনে এত টাকার কেনাকাটার নজির বিরল। শুধুমাত্র একাকী দিবসের কথা মাথায় রেখেই জ্যাক মা-র সংস্থা ‘আলিবাবা’ প্রতি বছর এই দিনে ‘ডাবল ১১’ সেল চালু করে, তার আওতায় প্রচুর ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়।
যদিও নোভেল করোনাভাইরাসের জেরে উদ্ভুত অতিমারি পরিস্থিতির পর থেকে এই রীতিতে সামান্য পরিবর্তন এসেছে। ইচ্ছে মতো পছন্দের জিনিস কেনার পরিবর্তে নিত্য প্রয়োজনের জিনিস কেনার দিকে ঝুঁকেছেন চিনা নাগরিকরা। তবে তাতেও বিপুল বিক্রিবাটা হয় এই দিনে। পাশাপাশি হু হু করে বিকোয় প্রসাধনী সামগ্রীও। তাই বিদেশি সংস্থাগুলিও এই দিনটিতে বাজার দখলে মরিয়া চেষ্টা চালায়। বাকি সংস্থার তুলনায় নাইকি এগিয়ে থাকে দৌড়ে। পাশাপাশি প্রসাধনী সংস্থা লোরিয়াল প্যারিসেরও বিক্রিবাটা ভাল হয়। গতবছর অ্যাপল-এর পণ্যও ভাল বিকিয়েছিল। গত বছর এক মিনিটে অ্যাপল-এর ১০০ কোটি ইউয়ান মূল্যের পণ্য বিক্রি হয়েছিল এই দিনটিতে।
(Feed Source: abplive.com)
