
‘জলের উপর পানি’ উপন্যাসের জন্য বাংলাভাষায় সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার পেলেন সাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তী। তিন-চার বছর আগে ধারাবাহিকভাবে এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় একটি বাংলা দৈনিকে। স্বপ্নময়েরই আর একটি বিখ্যাত উপন্যাস ‘চতুষ্পাঠী’-এর পরবর্তী অধ্যায়ের কাহিনি শোনায় ‘জলের উপর পানি’। প্রকাশের সময় থেকেই পাঠকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল এই উপন্যাস। পরে বই আকারে তা প্রকাশ হয়। এবার সেই উপন্যাসের জন্যই সাহিত্য অ্যাকাডেমি তরফে সেরার শিরোপা পেলেন এই বাঙালি সাহিত্যিক।
উপন্যাসের পথে তাঁর জীবন
মূলত ছোটগল্পকার হিসেবেই খ্যাতি ছিল একসময়। তাঁর লেখা গল্প থেকে নাটক করেছেন স্বয়ং বাদল সরকার। এর পর ধীরে ধীরে উপন্যাসে হাত পাকাতে শুরু করেন স্বপ্নময়। ব্যঙ্গ ও শ্লেষের সুর তার লেখার পরিচিত ও জনপ্রিয় আঙ্গিক। স্বপ্নময়-সুলভ আঙ্গিকেই বারবার ক্ষয়ে যাওয়া সময়ের অ্যাখ্যান তুলে ধরতেন তিনি। তাঁর লেখায় বারবার উঠে এসেছে বিভিন্নভাবে সমাজে প্রান্তিক হয়ে যাওয়া মানুষের কথা। প্রসঙ্গত, ‘জলের উপর পানি’ ও ‘চতুষ্পাঠী’ অনঙ্গমোহন নামে তেমনই এক সৎ ব্রাহ্মণের কাহিনি শুনিয়েছে বাঙালিকে।
তাঁর আর এক জনপ্রিয় উপন্যাস ‘হলদে গোলাপ’-ও একইভাবে প্রান্তিক মানুষের কথা বলে। মূলধারার যৌনতার নিরিখে পিছিয়ে পড়া রূপান্তরকামী, সমকামী মানুষদের ঘিরেই সেই কাহিনির গড়ে ওঠা। চিত্রপরিচালক তথা সাহিত্যিক ও বিখ্য়াত সম্পাদক ঋতুপর্ণ ঘোষের অনুরোধেই এই উপন্যাস লেখা শুরু করেন স্বপ্নময়। ঋতুপর্ণ ঘোষের প্রয়াণের পর সে কথা তিনি উল্লেখ করেছিলেন একটি লেখায়। পরে সেই উপন্যাসটিও পুরস্কৃত হয়েছিল একটি বিখ্যাত পুরস্কারে।
সাহিত্যের পাশাপাশি তাঁর কর্মজীবনও বেশ কৌতুহল উদ্রেক করে। একটা সময় ধূপকাঠির সেলসম্যানের কাজও করেছেন স্বপ্নময়।দারিদ্রের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পাশাপাশি চালিয়ে গিয়েছে সাহিত্যকর্ম। এর পরে বেতারে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। বেতারের সেই কাজের অভিজ্ঞতার কথাও বারবার উঠে এসেছে তাঁর লেখায়। তাঁর বসতবাড়িসহ পরিচিত এলাকা, মানুষগুলিকেও পাওয়া যায় তাঁর সাহিত্যের অলিগলিতে। এবার সেই দীর্ঘ সাহিত্যসাধনারই স্বীকৃতি পেলেন স্বপ্নময়।
https://images.hindustantimes.com/bangla/img/2023/12/19/600×338/Zomato_1694026679971_1703003676955.jpg
