
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাজস্থানে অবস্থিত একটি তীর্থস্থানের এক আকর্ষণীয় গল্প শেয়ার করেছেন এক নেটিজেন, এই মন্দিরটি রয়্যাল এনফিল্ড বুলেটকে উৎসর্গ করে তৈরি করা হয়েছে। রাজস্থানের(Rajasthan) এই বিখ্যাত মন্দিরকে বলা হয় ‘বুলেট বাবা মন্দির'(Bullet Baba Shrine)। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাইক আরোহী এবং মানুষ তাঁদের সুখ ও নিরাপত্তার জন্য এই মন্দির দর্শনে আসেন । মন্দিরে মূর্তি হিসাবে রয়েছে ৩৫০ সিসি রয়্যাল এনফিল্ড বুলেট মোটরসাইকেল, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর আরএনজে ৭৭৭৩।
মন্দিরটি ‘ওম বান্না মন্দির’ নামেও পরিচিত যা পালির ২০ কিলোমিটার আগে এবং যোধপুর থেকে ৫৩ কিলোমিটার আগে চোটীলা গ্রামে অবস্থিত। পালি শহরের ৫৩ কিমি আগে যোধপুর এবং আহমেদাবাদকে সংযুক্তকারী এনএইচ৬২-এ একটি মন্দির আছে যেখানে কোন দেবতার মূর্তি নেই। তবুও, প্রতি বছর বহু মানুষ দেবতার প্রতি শ্রদ্ধা ও প্রার্থনা জানায় – ৩৫০ সিসি রয়েল এনফিল্ড বুলেট (আরএনজে ৭৭৭৩)।
নতুন বাইক কেনার পরে বুলেট বাবা মন্দির নামে পরিচিত মন্দিরটি পরিদর্শনে যান বাইকাররা এছাড়াও মহিলারা যারা রাস্তায় তাঁদের স্বামীর সুরক্ষার চান তাঁরাও আশীর্বাদ চাইতে যান এই মন্দিরে। সেখানে একটি গাছও রয়েছে, যার চারপাশে লোকেরা বুলেট বাবার প্রতি তাদের বিশ্বাসের প্রতীক হিসাবে একটি লাল সুতো বাঁধে।
স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলে এই মন্দিরটি তৈরি করা হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে ওম সিং রাঠোর দুর্ঘটনায় মারা যান। স্থানীয় পুলিস তাঁর বুলেট বাইকটি নিজেদের হেফাজতে নিলেও পরের দিনই রহস্যজনকভাবে বাইকটি থানা থেকে উধাও হয়ে যায় এবং দুর্ঘটনাস্থলেই ফের ওই বাইকটা দেখা যায়।
এই বুলেটটি ছিল একজন স্থানীয় গ্রামের নেতার পুত্রের, যিনি ১৯৮৮ সালে একটি দুর্ঘটনার শিকার হন এবং আজ যেখানে এই মন্দিরটি অবস্থিত, সেখানে মারা যান তিনি। স্থানীয় পুলিস বাইকটি উদ্ধার করে নিকটবর্তী থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু পরের দিন ফের দুর্ঘটনাস্থলে পাওয়া যায় বাইকটা। পুলিস তা ফিরিয়ে নিলেও ফের দুর্ঘটনাস্থলে চলে যায়। বেশ কিছুবার এই ঘটনা ঘটার পর গ্রামবাসীরা একটি মন্দির নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। এভাবেই ওই এনএইচ ৬২-এর বাইকআরোহী সাধু হয়ে ওঠেন, দুর্ঘটনা থেকে মানুষকে রক্ষা করেন।গ্রামবাসীদের মধ্যে আরও একটি বিশ্বাস রয়েছে যে ওম বান্নার আত্মা ভ্রমণকারীদের সুরক্ষিত রাখে। ওম বান্নাকে নিয়ে রাজস্থানে অনেক মন্দির আছে।
(Feed Source: zeenews.com)
