
আর মাত্র কয়েকটা দিন। আর কয়েকটা রাত পেরোলেই নিউ ইয়ার। চারিদিকে আলোর রোশনাই, মজা আনন্দ, হরেক রকম খাবারদাবার। আলোর রোশনাইয়ে ভরে গিয়েছে রাস্তাঘাট। তবে এতো আনন্দের আমেজ শুধু নিউ ইয়ারের জন্য নয়। এই আনন্দের আরও এক কারণ হল ক্রিসমাস। রঙবেরঙের সাজসজ্জা, আলো, খাবারে ভরে গিয়েছে বিভিন্ন গির্জার রাস্তা। পথেঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছে ছদ্মবেশী সান্টাক্লজেরা।
ছোটরাও গিফ্ট পাওয়ার আশায় দিন গুণছে। ছোটদের স্বপ্নে বিরাজ করছে সাতটা সাদা ঘোড়ার পিঠে চাপা লাল জামা পড়া , একমাথা সাদা চুল আর দাড়ির বুড়ো। ২৪ এর রাত পোহালেই তিনি যেন কোনও এক রূপকথার নগরী থেকে উপহার এনে ঢেলে দেবেন সারা পৃথিবীতে। জোরকদমে চলছে ২৫ ডিসেম্বরে ক্রিসমাস পালনের উদ্যোগ।
তবে কেন এদিন ক্রিসমাস জানেন? কেন ক্রিসমাস বলা হয় এদিনকে?
‘ক্রিসমাস’ কথাটি এসেছে মাস অফ ক্রাইস্ট। এর উত্তর নিয়ে তুমুল বিতর্ক রয়েছে। যিশুখ্রিস্টের গোটা জন্মমাসটাকেই খ্রিষ্টমাস বলা হয়। খ্রিষ্টমাস থেকেই এসেছে ক্রিসমাস। মধ্যযুগীয় সময় ইংরেজি Christemasee বা Christes Maesse শব্দ থেকে খ্রিষ্টমাস কথাটি এসেছে।
Christes শব্দটি আবার গ্রিক Christos এবং ‘maesse’ শব্দটি লাতিন শব্দ missa থেকে এসেছে। ১০৩৮-এর একটি রচনা থেকে এমনই জানা গিয়েছে।
Christmas কে X-Mas বলারও একটা বিশেষ কারণ রয়েছে। গ্রিক ভাষায় এক্স কথাটির অর্থ হল Christ। তাই ক্রিসমাসকে সংক্ষিপ্ত করতে এক্সমাস লেখা হয়। যদিও ২৫ ডিসেম্বরকে বড়দিন পালন করার প্রথা শুরু করেছিল রোমানরা।
রোমের অরেলিয়ান নামের এক রাজা জাঁকজমকের সঙ্গে ২৫ ডিসেম্বরকে বড়দিন হিসাবে পালন করা শুকু করেন। এমনই লেখা রয়েছে ‘The Origin Of Christmas’ নামের বইয়ে। তবে রাশিয়া, জর্জিয়া মিশর, আর্মেনিয়া, ইউক্রেন ও সার্বিয়াতে এদিন ক্রিসমাস পালন করা হয় না। এইসব দেশে বড়দিন পালন করা হয় ৭ জানুয়ারি।
তবে ভারতে শুরুর দিক থেকেই ২৫ ডিসেম্বরকেই ক্রিসমাস হিসাবে পালন করা হয়। এ দেশে এই উৎসবের প্রচলন শুরু করেন ইংরেজ আমলে সাহেবদের হাত ধরে। এদিন কেক খাওয়ার রেওয়াজ ছিল ব্রিটিশদের মধ্যে। পরবর্তীকালে ব্রিটিশরা চলে গেলেও আজও সেই ধারায় বহন করেন ভারতীয়রাও।
