
ভারত কি কোনও তৃতীয় দেশের হাত দিয়ে ইউক্রেনকে আর্টিলারি শেল পাঠাচ্ছে? এই সংক্রান্ত কিছু রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সোজাসুজি এই গুজব অমূলক বলে খণ্ডন করা হল ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফ থেকে। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এদিন সেই কথা বলেছেন।
বেশ কয়েকটি রিপোর্ট, প্রধানত সোশ্যাল মিডিয়া এবং কিছু বিদেশি সংবাদ ওয়েবসাইটে বলা হয়েছিল যে ভারতে উত্পাদিত ১৫৫ মিমি আর্টিলারি শেলগুলি ইউক্রেনীয় বাহিনী দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে মধ্য ইউরোপের একটি দেশ ভারতের কাছ থেকে শেলগুলি কিনে ইউক্রেনকে সরবরাহ করেছিল। এই প্রসঙ্গে জয়সওয়াল বলেন, ‘আর্টিলারি শেল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে একটি বিষয় খুব পরিষ্কার। আমরা এ বিষয়ে কিছু গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও দেখেছি। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে পারি যে আমরা ইউক্রেনে এই আর্টিলারি গোলাবারুদের কোনওটিই পাঠাইনি’। তিনি আরও বলেন, ‘রপ্তানি হয়নি, পাঠানো হয়নি।
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা ইউক্রেনের সংঘাত এবং দু’পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা করার একদিন পর জয়সওয়ালের এই প্রতিক্রিয়া এল। কয়েক মাসের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ।
বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, কারিগরি, শিল্প ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সম্পর্কিত ভারত-ইউক্রেন আন্তঃসরকারি কমিশনের প্রায় ছয় বছরের মধ্যে প্রথম বৈঠক করতে দুই মন্ত্রী সম্মত হন।
কুলেবা রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কির প্রস্তাবিত শান্তি ফর্মুলা এবং ২০২৪ সালে একটি বিশ্ব শান্তি শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের কিয়েভের পরিকল্পনায় ভারত ও ইউক্রেনের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়টিও উত্থাপন করেছিলেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অবসান ঘটাতে ভারত ধারাবাহিকভাবে আলোচনার রাস্তায় ফিরে আসার জন্য চাপ দিয়ে আসছে এবং রাশিয়ার আগ্রাসনের কোনও প্রকাশ্য সমালোচনা থেকে বিরত রয়েছে। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে রাশিয়ার কোনও সমালোচনা ভারত করেনি আবার অন্যদিকে ইউক্রেনকে বিভিন্ন মানবিকতার স্বার্থে সাহায্য করেছে নয়া দিল্লি। প্রসঙ্গত এক বছরের ওপর ধরে যুদ্ধ চলছে। এখনও সমস্যা সমাধানের কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে এর মধ্যে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি পুতিন জি২০ সম্মেলনে আসেননি। যদিও হালেই মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন তিনি। সবমিলিয়ে ভারসাম্যের নীতি নিয়ে চলছে ভারত ও এখনও পর্যন্ত তা সফল হয়েছে।
(Feed Source: hindustantimes.com)
