
#কলকাতা: ফের এই রাজ্যে শিল্পীর স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকারের উপর আক্রমণ করা হল! ইউটিউবার রোদ্দুর রায়ের গ্রেফতারিকে এমনটাই মনে করছে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (APDR)! শুধু তাই নয়, কবি ও ইউটিউবার রোদ্দুর রায়ের নিঃশর্ত মুক্তিরও দাবি তুলেছে APDR। APDR এর সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত শূর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, রোদ্দুর রায়ের মত প্রকাশের ভাষা নিয়ে কারও আপত্তি থাকলেও তাঁকে গ্রেফতার করা আসলে মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর রাষ্ট্রের আক্রমণ।
রঞ্জিত শূরের কথায়, উপযুক্ত মঞ্চ ও মাধ্যমে রোদ্দুর রায়ের বিষয় ও ভাষা নিয়ে সমালোচনা হতেই পারে। “কিন্তু পুলিশ দিয়ে জেলে পুরে কারও কণ্ঠ রূদ্ধ করা বা তাঁর ভাষা বা প্রকাশ ভঙ্গি বদলানোর এই রাষ্ট্রীয় চেষ্টা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। যাঁরা তাকে গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না তাঁদের বিকল্প ভাষা বা শৈলী দিয়েই তাঁর মোকাবিলার চেষ্টা করা উচিত। পুলিশের কাছে নালিশ করে, জেলে পাঠিয়ে কবি-শিল্পীকে বা শিল্পের কোন ধারাকে আটকানোর চেষ্টা একটি ফ্যাসিবাদী পথ, যা মোটেই গ্রহণ যোগ্য নয়।” APDR এর মতে রোদ্দুর রায়ের গ্রেফতারের ঘটনা আসলে রাজ্যের সরকারের দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ। অবিলম্বে রোদ্দুর রায়ের মুক্তির দাবিও তুলেছে APDR।
মঙ্গলবার গোয়া থেকে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করে ইউটিউবার রোদ্দুর রায়কে। পুলিশ সূত্রে খবর, ট্রানজিট রিমান্ডে গোয়ায় তোলা হবে, তার পর তাঁকে নিয়ে আসা হবে কলকাতায়। উল্লেখ্য, গায়ক রূপঙ্কর এবং অকালপ্রয়াত গায়ক কেকে-কে নিয়ে রোদ্দুর রায় সম্প্রতি একটি ফেসবুক লাইভ করেন। সেখানে রূপঙ্করের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করেন রোদ্দুর। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং রাজ্য পুলিশ-প্রশাসন বিষয়েও কটুক্তি করেন তিনি। এই লাইভ নিয়েই তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয় গত শনিবার।
পরিচালক কৌশিক মুখোপাধ্যায় ওরফে ‘কিউ’ মঙ্গলবার ফেসবুকে রোদ্দুর রায়ের গ্রেফতারির খবর শেয়ার করেন প্রথম। তারপরই কলকাতা পুলিশের তরফেও খবরের সত্যতা স্বীকার করা হয়। এর আগেও রোদ্দুর রায়ের বিরুদ্ধে লালবাজার সহ বিভিন্ন থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
