নম্বর দিতে গিয়ে কিপটেমি নয়! উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষকদের কাছে গেল নির্দেশ

নম্বর দিতে গিয়ে কিপটেমি নয়! উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষকদের কাছে গেল নির্দেশ

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা সবে শেষ হয়েছে। চলছে খাতা দেখার পর্ব। এরই মাঝে, পরীক্ষার্থীদের দরাজ হাতে নম্বর দেওয়ার নির্দেশ এসে গিয়েছে পরীক্ষাকদের কাছে। বাংলার প্রথম সারির এক সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, একবার নয়, পর পর দু’বার পরীক্ষকদের কাছে নির্দেশে বলা হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও কার্পণ্য করা যাবে না।

জানা যাচ্ছে, নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যেখানে যোগ্য বলে মনে হবে, সেখানে অকারণ রক্ষণশীলতা ছেড়ে পুরো নম্বর দেওয়া যায় কি না, তা দেখতে হবে পরীক্ষকদের। যে বিষয়গুলির সঙ্গে গবেষণাগার জড়িত নয়, সেই বিষয়গুলিতে অহেতুক কম নম্বর দেওয়ার প্রবণতা পরীক্ষকদের ছাড়তে বলা হয়েছে। এই নির্দেশ, পরীক্ষকদের পাঠানো প্রাথমিক নির্দেশিকায় এসেছে বলে খবর। সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এই নির্দেশ প্রধান পরীক্ষকদের মাধ্যমে বাকি পরীক্ষকদের কাছে গিয়েছে। তিনি বলছেন, নির্দেশে সাফ বলা হয়েছে, যেকোনও বিষয়ের উত্তর আংশিক ঠিক হলে, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে তার নম্বর দিতে হবে। এক্ষেত্রে এমন ধরনের নাম্বারিং শুধু অঙ্ক বা অ্যাকাউটেন্সির ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে নম্বর প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, পরীক্ষার্থীরা পাচ্ছেন বিপুল নম্বর। মেধাতালিকায় তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঢালাও নম্বর দেওয়ার জন্য নির্দেশ ইতিমধ্যেই পরীক্ষকদের কাছে চলে এসেছে।

সংসদ সভাপতি বলছেন, উচ্চমাধ্যমিকে এবার সব বিষয়েই যেকোনও প্রশ্নের উত্তর, যতটা ঠিক লেখা হয়েছে, ততটা নম্বর ওই পরীক্ষার্থীকে দেওয়া হবে। প্রশ্নের জন্য নির্ধারিত নম্বর ৫ হলেও তার ক্ষেত্রে একই নিয়ম, আবার নম্বর ১ হলেও তার ক্ষেত্রে একই নিয়ম বলবৎ রয়েছে। কোন বিষয়ে, কোন প্রশ্নের উত্তর, কোন পার্টের উত্তর কীভাবে লিখলে তার কত নম্বর প্রাপ্তি, তা নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশ এসেছে পরীক্ষকদের কাছে। সংসদের ছাপানো মডেল অ্যানসার স্ক্রিপ্টের ২ টি বুকলেটে এই উত্তর রয়েছে। অঙ্ক, অ্যাকাউন্টেসি তো আছেই, এছাড়াও ৫৮ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরের কিছু অংশ ঠিক হলেই, তাতে পাওয়া যাবে নম্বর। সংসদ সভাপতি বলছেন, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পিপিআর রিভিউতে দেখা যাচ্ছে, ৫ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর একই লিখলেও, অনেক পরীক্ষার্থী পাচ্ছেন ৫, কেউ পাচ্ছেন ৩, আবার কেউ ১। সেই কারণে অনেক পরীক্ষার্থী আরটিআই ফাইল করছেন। এই সমস্যা থেকে বের হতেই এমন পদক্ষেপে সংসদ।

(Feed Source: hindustantimes.com)