বিশাখাপত্তনমের মতো দিঘায় সাবমেরিন মিউজিয়াম! নৌসেনাকে প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীর

বিশাখাপত্তনমের মতো দিঘায় সাবমেরিন মিউজিয়াম! নৌসেনাকে প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীর

#দিঘা: বিশাখাপত্তনমের মতো দীঘার বিচে সাবমেরিন মিউজিয়াম তৈরি করতে চান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী নৌবাহিনীর কাছে চাইলেন সাবমেরিন।

এদিন নিউটাউনে উদ্বোধন হল এয়ারক্রাফট মিউজিয়াম-এর। উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নৌবাহিনী আধিকারিকদের উপস্থিতিতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিশাখাপত্তনমের যেমন সাবমেরিন মিউজিয়াম রয়েছে, সেই রকম সাবমেরিন আমাদের যদি দেন তা হলে আমরা দীঘায় একটা সাবমেরিন মিউজিয়াম করব।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রস্তাবে নৌবাহিনী অধিকারিকরা জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন।

বিশাখাপত্তনমে রয়েছে। এবার একই রকম যুদ্ধবিমান কলকাতায় স্থান পেল। তবে যুদ্ধের জন্য নয়। মিউজিয়াম তৈরি হল এই যুদ্ধবিমানের ভিতরে।

ভারতীয় নৌবাহিনীতে ৩০ বছর পরিষেবা দেওয়া ২০১৭ সালে এই TU-142M অবসর নেয়। সেই যুদ্ধবিমানকে ভারতীয় নৌ-বাহিনী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হাতে তুলে দেয় মিউজিয়াম করার জন্য।

কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি এবং হিডকো যৌথভাবে নিউটাউনে এই সাবমেরিন বিধ্বংসী বিমানটিকে বসিয়ে মিউজিয়াম গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়।

২০২০ সালে এই মিউজিয়াম পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হাতে চলে এলেও করোনার কারণে তা তৈরি করতে অনেকটা সময় লেগে গেল। অবশেষে রাজ্যের প্রায় আড়াই একর জমিতে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় করে এই মিউজিয়ামের মত কাঠামো তৈরি করে মানুষের জন্য খুলে দিল। কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি এবং হিডকো যৌথভাবে এই মিউজিয়ামের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করবে।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন এই মিউজিয়ামের উদ্বোধন করেন। তার পর তিনি নৌবাহিনীর বীরত্বের কথা উল্লেখ করে তাদের ধন্যবাদ দেন এই বিমানটিকে দেওয়ার জন্য।

পাশাপাশি তিনি নৌবাহিনীর কাছে আর্জি জানান, “বিশাখাপত্তনমের সামুদ্রিক বিচে যেরকম অবসর নেওয়া একটি সাবমেরিন বসিয়ে মিউজিয়াম গড়ে তোলা হয়েছে, তাদের সরকারকে নৌবাহিনী যেন একটা অবসর নেওয়া সাবমেরিন দেয়। সেই সাবমেরিন দীঘার সমুদ্রের ধারে বসিয়ে মিউজিয়াম হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা ভারতীয় নৌবাহিনীর পশ্চিমবঙ্গ ফ্লিটের কর্তারা তাঁকে এই ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন এবং নৌ বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।

হিডকো সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মিউজিয়াম নার্সারি থেকে কলেজ পর্যন্ত পড়ুয়াদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেখার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। শুধু পরিচয় পত্র দেখাতে হবে। তবে বাকি পর্যটকদের এই মিউজিয়াম দেখার জন্য ৩০ টাকা ব্যয় করতে হবে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে নির্দেশ দেন, যে মাঠের উপরে এই বিমানটিকে বসানো হয়েছে তার আশেপাশের আরো বেশি সৌন্দর্যায়ন করার জন্য।

ভারতীয় নৌ-বাহিনী সূত্রে জানা গিয়েছে, নৌ বাহিনীর হাতে থাকা এই সাবমেরিন বিধ্বংসী যুদ্ধবিমানটি ১৯৮৩ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে ভারত সরকার পায়।

তিনটি বড় যুদ্ধ – অপারেশন পরাক্রম, কারগিল এবং অপারেশন ক্যাকটাস-এ অংশ নিয়েছিল এটি। পৃথিবীতে যে ক’টি সাবমেরিন বিধ্বংসী বিমান রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী এবং আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন এই TU-143M।

এই মিউজিয়ামের ভেতরে সাবমেরিন বিধ্বংসী বিমানের যা যা উপকরণ বা যন্ত্রাংশ ছিল, সেগুলিকেই যথাযথভাবে রাখা হয়েছে। আট জন ক্রু মেম্বার যেখানে বসে বিমানটিকে চালনা করতেন এবং ককপিটে যেখানে যেখানে পাইলটরা বসতেন সেখানে মডেল হিসেবে পুতুল রাখা হয়েছে।

সাবমেরিন বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বিমানের ভিতরে রয়েছে। এগুলি সবই পর্যটক বা দর্শকদের সামনে তুলে ধরবে কেএমডিএ এবং হিডকো। সাহায্য করবে ভারতীয় নৌ-বাহিনী।

Published by:Suman Majumder

(Source: news18.com)