
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: লোকসভা নির্বাচনের আগে বিপুল ঢক্কানিনাদ করেছিল বিজেপি। যোগী আদিত্যনাথ ছিলেন এককাঠি উপরে। বিজেপির তরফে বলা হয়েছিল রাজ্যে ৮০ আসনের মধ্যে আশিটাই পাবে বিজেপি। কিন্তু ইন্ডিয়া ব্লকের কলকাঠিতে বিজেপির ভরাডুবি হয়েছে। চল্লিশটি আসনও পায়নি বিজেপি। যে যোগী আদিত্যনাথকে ডাকাবুকো বলেই চেনে গোটা দেশ সেই যোগী জোর ধাক্কা খেয়েছিলেন লোকসভা ভোটে। এবার আরও বড় খবর।
উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে এবার জোর জল্পনা, মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে যোগী আদিত্যনাথকে। কেন এমন জল্পনা? দলের ২ শীর্ষ নেতা গত ২ দিনে জে পি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাশপাশি গত ৪৮ ঘণ্টা ২ বার নাড্ডার সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি ভূপেন্দ্র চৌধুরী। লোকসভা ভোটে দলের ভরাডুবির দায় তিনি নিজের ঘাড়ে নিয়েছেন। সূত্রের খবর, তিনি তাঁর পদও ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। এর থেকেই জল্পনা তেজি হচ্ছে যে রাজ্যে বড়সড় কোনও রদবদল হতে পারে।
এদিকে, এই তত্পরতার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন অমিত শাহ। পাশাপাশি নাড্ডার সঙ্গে মৌর্যের সাক্ষাতের পর জল্পনা তুঙ্গে ওঠে যে যোগীকে হয়তো সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি এনিয়ে সুর চড়িয়েছে সপাও। এনিয়ে অখিলেশ যাদব বলেন, বিজেপির মধ্যেই ক্ষমতার লড়াই রাজপাঠ এখন ব্যাকবেঞ্চে চলে গিয়েছে। অন্য পার্টির সঙ্গে বিজেপি যা করে এবার নিজেদের মধ্যেই তা শুরু হয়ে গিয়েছে।
এখনওপর্যন্ত যোগী আদিত্যনাথকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি জল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এনিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না এখনই। তবে একটা জল্পনা রয়েছে যে ২০২৭ এর ভোটের আগে রাজ্যে একজন ওবিসি মুখ আনতে চায় বিজেপি। এবারের লোকসভা ভোটে দলিত ভোট বিজেপির বিরুদ্ধে গিয়েছে। পার্টির যেসব কর্মকর্তা দলের বিভিন্ন সমস্যার কথা বলেছেন তা দূর করার চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি লখনউয়ে দলের এক বৈঠকে যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, দলে যারা সমস্যা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন তারা আর দ্বিতীয়বার সুযোগ পাবেন না। অন্যদিকে, কেশব প্রসাদ মৌর্য বলেছেন, সরকারের আগে সংগঠন। রাজ্য বিজেপিতে জোর জল্পনা, যোগী ও মৌর্যের সঙ্গে একটা ফাটল তৈরি হয়েছে।
রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর, রাজ্য মন্ত্রিসভায় একটা বড়সড় রদবদল হতে পারে। কারণ বিজেপির মধ্যেই গোলমাল। এমনকি রদবদলের ক্ষেত্রে বড় কোনও ঘটনাও ঘটতে পারে। খুব শীঘ্রই রাজ্যের ১০ আসনে উপনির্বাচন হতে পারে। তার পরই রাজ্য মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে পারে। তবে যোগী আদিত্যনাথকে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে মন্ত্রিসভা ও দল বড় পরিবর্তন হতে পারে।
(Feed Source: zeenews.com)
