
#কলকাতা: শহর ও শহরতলিতে বিভিন্ন অসাধু চক্র রমরমিয়ে চলছে।দুর্নীতির বাজার চলছে দেদার। খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল এখন একটি বিরাট চিন্তার বিষয়।
এই ভেজাল চক্র দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। কলকাতা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ সক্রিয় থাকলেও রাজ্য পুলিশের এনফোর্সমেন্ট তেমন ভাবে সক্রিয় নয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা বিভিন্ন দোকান থেকে গুঁড়ো মশলার নমুনা সংগ্রহ করেছিল। ২২ মে সেই নমুনার রিপোর্ট পেশ হয়।
গোয়েন্দারা জানতে পারেন, প্রায় প্রতিটি গুঁড়ো মশলা মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। সেই মশলা গুলোর মধ্যে জিরে, হলুদ, লংকা, ধনিয়া ইত্যাদি রয়েছে। তার পরই এনফর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ বড় বাজার পোস্তা এলাকাতে বিভিন্ন মশলা পেষাইয়ের কারখানাগুলোতে অভিযান চালায়।
ধরপাকড়ের পর গোয়েন্দারা জানতে পারেন, দোকানদাররা ষাট টাকা কেজি দরে হলুদের গুঁড়ো প্রস্তুত করছে। সেই হলুদ,লঙ্কা গুঁড়ো বাজারে ১২০ টাকায় বিক্রি করছে। এই বিষয়ে পোস্তার আর এক মশলার ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে কম দামে গুঁড়ো মশলা এসে চায় দোকানদাররা। তাদের চাহিদা মতো তৈরি করে দিতে হয়। না হলে ব্যবসা করতে পারব না।
এনফর্সমেন্ট গোয়েন্দারা ওই মশলার কারখানাগুলোতে প্রচুর পরিমাণে শিল্পে ব্যবহৃত রঙ পেয়েছেন। সঙ্গে হলুদের সঙ্গে মেশানোর জন্য মেটালিক ইয়েলো থেকে আরম্ভ করে কাঠের গুঁড়ো পেয়েছেন তাঁরা। যা মূলত মেশানো হয় জিরে গুঁড়ো সঙ্গে।
পোস্তা এলাকার একজন গুঁড়ো মশলার কারখানার মালিক রাকেশ গুপ্তাকে এনফর্সমেন্ট গ্রেফতারও করে। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডানকুনিতে একটি বড় ভেজাল মশলার কারখানার হদিস পায়। সেখানে অভিযানের পর কয়েক টন ভেজাল গুঁড়ো মশলা বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।
শহরে বেশিরভাগ ছোট এবং মধ্য মানের হোটেল রেস্টুরেন্টগুলোতে এই ধরনের গুঁড়ো মশলা রান্নায় ব্যবহার বেশি হয়। সেই খাবার প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ খেয়ে থাকেন। এছাড়াও মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তরা অল্প দামে মশলা খুঁজতে গিয়ে প্রতিদিন ঠকছেন। মশলার নামে সাধারণ মানুষ আসলে কী যে খাচ্ছে তা জানলে চোখ কপালে উঠবে।
