
প্যারিস অলিম্পিক্সে ভারতীয় টেবিল টেনিস দলের পারফরমেন্স মোটেই ভালো ছিল না। মহিলাদের বিভাগে যাও বা শ্রীজা আকুলা, মনিকা বাত্রাসহ কয়েকজন লড়াই দিয়েছিলেন, সেই তুলনায় পুরুষ দলের পারফরমেন্স ছিল একদমই খারাপ। পদক আনা তো দুরের কথা, সেমিফাইনাল পর্যন্তও এগোতে পারেনি ভারতীয় দল, সেটা ব্যক্তিগত এবং দলগত দুই বিভাগেই। এই আবহেই প্যারিস অলিম্পিক্স শেষ হয়েছে। এই ইভেন্টে অবশ্য ভারত কখনই তেমন সাফল্য পায়নি অলিম্পিক্সের ইতিহাসে।
এবারে ভারতীয় টেবিল টেনিস খেলোয়াড় শরথ কমল প্যারিস অলিম্পিক্সের ওপেনিং সেরিমনিতে অর্থাৎ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের পতাকাবহনের দায়িত্বে ছিলেন। তবে নিজের খারাপ পারফরমেন্সের পর বড় সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। ৪২ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জানিয়ে দিলেন, এটাই ছিল তাঁর শেষ অলিম্পিক্স, আর দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে দেখা যাবে না তাঁকে।
প্যারিস অলিম্পিক্স মিলিয়ে মোট ৫টি অলিম্পিক্সে অংশ নিয়েছেন ভারতের এই প্যাডলার। সেই ২০০৪ সালের এথেন্স অলিম্পিক্স দিয়ে শুরু, এরপর বেজিং, রিও, টোকিয়ো হয়ে প্যারিসে এসে থামল তাঁর বর্ণময় অধ্যায়। এই আবহেই নিজের এক্স হ্যান্ডেলে শরথ কমল জানিয়ে দিলেন নিজের সিদ্ধান্তের কথা।
শরথ কমল লিখলেন, ‘আমার অলিম্পিক্সে যাত্রা এখানেই শেষ হল, হয়ত যেমনভাবে ভেবেছিলাম তেমনভাবে হল না। কমনওয়েলথ গেমস বা এশিয়ান গেমসে বছরের পর বছর ধরে অনেক পদক জিতলেও অলিম্পিক্সে পদক জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল। এথেন্সে আমি শুরু করেছিলেন ১৭১ নম্বর ক্রমতালিকায়, ভারতীয় দলের তখন স্থান ছিল বিশ্বে ৩৬ তম স্থানে। এরপর ভারত এখন বিশ্বের অষ্টম স্থানে, আর আমার ব্যক্তিগত স্থান এখন ৩০ নম্বরে। ফলে ভারতীয় টেবিল টেনিসের অনেক উত্থানই দেখেছি শেষ ২০ বছর ধরে। এভাবে দেশের জন্য নিজেকে উজার করে দিতে পেরে ভালোই লাগছে ’।
শরথ আরও লিখেছেন, ‘দেশের হয়ে ২০০২ সাল থেকে আমি টেবিল টেনিসে মুখ রয়েছি। কমনওয়েলথ গেমসে ১৩পদক পেয়েছি, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জিতেছি ৬০ পদক। ২টি পদক পেয়েছি এশিয়াম গেমসে, খেলেছি পাঁচটি অলিম্পিক্সে। এটা আমার কাছে গর্বের ব্যাপার। আমার অলিম্পিক্স পদক জয়ের স্বপ্ন অধরা থাকলেও আমি সামনের দিকে তাকাচ্ছি এই খেলায় আরও অবদান রাখার জন্য। সব সময় চেয়েছি নিজেকে উৎসর্গ করতে এই খেলার প্রতি ও দায়বদ্ধতা দেখাতে’।
(Feed Source: hindustantimes.com)
