
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আন্তঃমহাদেশীয় কাপের (Intercontinental Cup 2024) হাত ধরেই নতুন কোচ মানোলো মার্কেজের (Manolo Marquez) পথচলা শুরু হয়েছিল ভারতীয় দলের সঙ্গে। প্রথম অ্য়াসাইনমেন্টে তাঁর দলের হতশ্রী পারফরম্য়ান্স ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীরা ভুলে যেতে চাইবেন। সোমবার তেলঙ্গানার গাচ্চিবৌলি স্টেডিয়ামে ভারতের কাছে সিরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ ছিল ডু-অর-ডাই। কারণ প্রথম ম্যাচে ভারত গোলশূন্য় ড্র করেছিল মরিশাসের সঙ্গে। ফলে জেতা ছাড়া আর কোনও রাস্তাই ছিল না ভারতের কাছে। এরকম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভারত অসহায় আত্মসমর্পণ করল সিরিয়ার কাছে। যুদ্ববিধ্বস্ত দেশ ৩-০ গোলে ভারতকে হারিয়ে এই প্রথমবার জিতে নিল আন্তঃমহাদেশীয় কাপ!
সিরিয়াগত ম্যাচে মরিশাসকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল। মরিশাস ইতোমধ্য়েই ছিটকে গিয়েছে প্রতিযোগিতা থেকে। তারা আন্তঃমহাদেশীয় কাপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় ভারতের কাছে সুযোগ ছিল টিকে থাকার! অন্যদিকে সিরিয়াকে টিকে থাকতে গেলে ড্র করলেই হত! কোথায় কী! গুরপ্রীত সিং সান্ধুরা যে খেলা খেললনে, তারপর আর কোনও কিছুই আশা করার মতো ছিল না। আক্রমণ থেকে শুরু করে মাঝমাঠ হয়ে রক্ষণ, একটি বিভাগেও দাগ কাটতে পারল না ভারতীয় টিম। পরিকল্পনাহীন ফুটবলে প্রতি মুহূর্তে ফুটে উঠল বোঝাপড়ার অভাব। সুনীল ছেত্রীর অভাব ভীষণ ভাবে টের পাওয়া গেল। তাঁর জায়গা নেওয়ার মতো আর একজনও দলে এখন নেই, তা যে কোনও বাচ্চা ছেলেও বলে দিতে পারবে। সুনীলের জায়গা কে নেবেন? আর সেই প্রশ্নের উত্তর কবে পাওয়া যাবে তা কেউই জানেন না। তবে সুনীলহীন ভারতীয় দল চোখে দেখা যায় না।
এদিন খেলার সাত মিনিটেই এদিন এগিয়ে যায় সিরিয়া। গোল করেন মাহমুদ আলাসওয়াদ এগিয়ে দেন তাঁদের। বিরতির আগে আর কোনও গোল হয়নি ঠিকই, তবে ভারতীয় খেলোয়ড়াদের চরম বোঝাপড়ার অভাব স্পষ্ট ফুটে উঠছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আশিস রাই এবং আপুইয়াকে নামিয়ে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াতে চেষ্টা করেছিলেন মানোলো। কিন্তু কোনও লাভের লাভ হয়নি। ৭৬ মিনিটে ডালেহো ইরানডাস্ট গোল করে সিরিয়াকে ২-০ এগিয়ে দেন। সংযুক্তি সময়ে পাবলো সাবাগের গোলে সিরিয়া জয় এবং ট্রফি নিশ্চিত হয়ে যায়। খেলার পর মানোলো বলেন, ‘প্রথমার্ধের খেলা দেখে আমি প্রচণ্ড রেগে গিয়েছিলাম। একটা ভীত দল দেখতে আমার একদমই ভালোলাগে না। প্রথমার্ধের গোল এড়ানো যেত। যদিও স্কোরলাইন মোটেই আসল ছবিটি দেখাচ্ছে না। আমরা দ্বিতীয়ার্ধে স্কোর করার দাবিদার ছিলাম। তবে ওদের আক্রমণই আমাদের শেষ করে দিল। তবে বিরতির পর আমরা সাহসি ফুটবল খেলেছি।’ দেখা যাক ভারতীয় ফুটবলে সুদিন কবে ফেরে!
(Feed Source: zeenews.com)
