
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অনেক টালবাহানার পর ভারতে ৩ হাজার টন ইলিশ পাঠাতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ফলে দুর্গাপুজোর আগে প্রতিবছরের মতো সেই ইলিশ বাংলায় এসে যাওয়ার কথা। কিন্তু তার মধ্যেই নতুন এক জটিলতা তৈরি হয়ে গেল। ওই ইলিশ পাঠানোর বিরোধিতা করে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান এরকমই একটি নোটিশ পাঠিয়েছেন দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আমদানি-রফতানি কার্যালয়ের প্রধান নিয়ন্ত্রককে। ফলে ওই ইলিশ এখন ভারতে আসবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেল।
কী বলা হয়েছে ওই নোটিশে? ওই নোটিশে বলা হয়েছে, ভারতের বিশাল সমুদ্র সীমা রয়েছে। সেখানে ব্যাপকভাবে ইলিশ উৎপাদন হয়। ফলে বাংলাদেশ থেকে ভারতের ইলিশ মাছ আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু ভারত মূলত বাংলাদেশের পদ্মা নদীর ইলিশ আমদানি করে। বাংলাদেশে ভারতীয় এজেন্ট ও মাছ রফতানিকারকরা সারা বছর ধরে পদ্মা নদীর ইলিশ মাছ মজুদ করে রাখে এবং বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে পদ্মা নদীর সব ইলিশ মাছ ভারতে রফতানি করে এবং ক্ষেত্রবিশেষে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পাচার করে। বাংলাদেশের পদ্মা নদীর ইলিশ ভারতে রফতানি ও পাচার হওয়ার কারণে বাংলাদেশের মানুষ বাজারে গিয়ে পদ্মার নদীর ইলিশ খেতে পায় না। ফলে দেশের জনগণকে সামুদ্রিক ইলিশ খেতে হয়, যা পদ্মার ইলিশের মতো সুস্বাদু নয়।
ওই নোটিশে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে যে সীমিত পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যায়, তা বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা অনুযায়ী যথেষ্ট নয়। এই অবস্থায় যদি পদ্মার সব ইলিশ ভারতে চলে যায় তাহলে বাংলাদেশের জনগণ পদ্মার ইলিশ খেতে পারবে না। এভাবে বাংলাদেশের জনগণকে পদ্মার ইলিশ থেকে বঞ্চিত করে ভারতের জনগণকে পদ্মার ইলিশ খাওয়ানো বাংলাদেশের সরকারের জন্য সমীচীন নয়। এ কথা সত্য যে, বাংলাদেশ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিস ভারত থেকে আমদানি করে কিন্তু ভারত সরকার কখনোই তার নিজের দেশের জনগণের চাহিদা না মিটিয়ে বাংলাদেশে রফতানি করে না।
(Feed Source: zeenews.com)
