
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাংলাদেশীরা শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে তাড়ানোর পর নিজেদের স্বাধীন বলে ঘোষণা করেছে। কিন্তু স্বাধীন হওয়ার পরপরই জনতাদের আসল চেহারা বেরিয়ে এসেছে। কোথাও ভাঙা হয়েছে বঙ্গবন্ধু মুজিবরের মূর্তি, কোথাও ভাঙা হয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তি। অবাধে চলেছে লুটপাট, ডাকাতি, মারধর। হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলি আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বাধীন হওয়ার পর উন্মত্ত জনতার হাত থেকে বাদ যায়নি মন্দির, এমনকি মাজারও। যদিও অনেক সচেতন মানুষ সেগুলিকে রক্ষা করবার জন্য সারারাত জেগে পাহারা দিয়েছেন, যাতে সন্ত্রাসবাদীরা সেগুলির ক্ষতি না কোর্টে পারে। এবার ধর্মান্ধদের হাত থেকে রক্ষা পেলেন না ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রক্ষা পেলেন না ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে একসাথে বেঁচে থাকার বার্তা দিয়ে যাওয়া লালন ফকিরও।
বাঙালিকে বাংলা ভাষা শেখানো, ‘বর্ণ পরিচয়’ শেখানো ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে ফেলা হয় সোমবার। একই সঙ্গে সোমবার বাংলাদেশের ফরিদপুরের ভাঙ্গায় লালন ফকিরের নামাঙ্কিত ‘লালন আনন্দধাম’, যেখানে মূলত গবেষণা করা হয়, সেখানে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। সেখানে থাকা লালন ফকিরের ছবি, মুল্যবান গ্রন্থসহ, একতারা, দোতারা, জুড়ি, গিটারসহ অন্যান্য আরও একাধিক বাদ্যযন্ত্র পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
‘লালন আনন্দধাম’-এর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ জাহিদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার একাধিক মৌলবাদী গোষ্ঠী লালন আনন্দধামে হামলার ছক কষছিল। এমনকি ফেসবুকে সরাসরি হামলা চালানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে। পুলিসকে জানান সত্যেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। যারা হুমকি দিয়েছিল, তাদেড় বিরুদ্ধেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ যদিও পুলিস জানিয়েছে, তাদের এই বিষয়টি জানা নেই। জানলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অবশ্যই নিতাম।
(Feed Source: zeenews.com)
