
চাকরি করতেন তিনি জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে। কিন্তু পিতৃমাতৃবিয়োগ এক ধাক্কায় বদলে দিয়েছে তাঁর জীবন। এখন তিনি ভিক্ষা করেন বেঙ্গালুরুর পথে পথে।
বেঙ্গালুরু: মা-বাবা সব সময়েই তাঁদের সন্তানের জন্য সেরাটা চেয়ে থাকেন। বহু যত্নে তাঁরা বড় করেন সন্তানকে, সুশিক্ষার অভাব যাতে না হয়, যাতে সন্তান জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠতে পারে, ক্ষমতা থাকলে চেষ্টার ত্রুটি রাখেন না। যখন তাঁরা চলে যান, এটা দেখে শান্তি পান যে সন্তান ভাল থাকবে। এই সব কিছুই এক যুবকের ক্ষেত্রে ঘটেছিল। চাকরি করতেন তিনি জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে। কিন্তু পিতৃমাতৃবিয়োগ এক ধাক্কায় বদলে দিয়েছে তাঁর জীবন। এখন তিনি ভিক্ষা করেন বেঙ্গালুরুর পথে পথে।
যে ইঞ্জিনিয়ারের কথা এখানে বলা হচ্ছে, তাঁর নাম এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। তাঁর কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন এক ইনফ্লুয়েন্সার। তাঁর নাম শরৎ যুবরাজ। ইনস্টাগ্রামে নিজের হ্যান্ডেলে অন্ত্রেপ্রেনর-জার্নালিস্ট-ইফ্লুয়েন্সার এই ভাবেই নিজের পরিচয় তুলে ধরেছেন তিনি। ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে সব মিলিয়ে তিনটি ভিডিও তিনি পোস্ট করেছেন ইনস্টাগ্রামে।
প্রথম পর্বে সেই ইঞ্জিনিয়ারকে বলতে শোনা যাচ্ছে নিজের কথা। ঝরঝরে ইংরেজিতে জানিয়েছেন যে তিনি গ্লোবাল ভিলেজ, ফ্রাঙ্কফুর্টে কাজ করেছেন। অকপটে স্বীকার করে নেন যে পিতৃ-মাতৃবিয়োগের দুঃখ ভুলতে মদের আশ্রয় নিয়েছিলেন। এখান থেকে ওই ইঞ্জিনিয়ারের কথায় কিছু অসংলগ্নতা ধরা পড়ে। আর্কিমিডিসের বই, অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, মানবসমাজের জন্য কিছু করতে চাওয়া- এরকম নানা প্রসঙ্গ উঠে আসতে থাকে তাঁর কথায়।
ওই ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে শরৎ যুবরাজের পোস্ট করা দ্বিতীয় ভিডিওটিতেও রয়েছে আইনস্টাইন আর নিউটনের কথা, এসেছে মানবমস্তিষ্কের ক্ষমতার প্রসঙ্গ। বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না যে এই যুবক রীতিমতো শিক্ষিত, কিন্তু এই মুহূর্তে তাঁর জীবন এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। খুব সম্ভবত কিছুটা হলেও মানসিক ভারসাম্যহীন তিনি।
তৃতীয় ভিডিওটিতে শরৎ যুবরাজ জানিয়েছেন যে তিনি ওই ইঞ্জিনিয়ারকে আপাতত কিছু টাকা আর খাবার দিয়ে সাহায্য করবেন, তবে তিনি সেটা ভিডিওয় দেখাতে চাননি। যদিও এটা পোস্টের সঙ্গে উল্লেখ করতে ভোলেননি যে ওই ইঞ্জিনিয়ারের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া হবে। ইউজাররাও অনেকেই বলেছেন যে ওঁকে কোনও রিহ্যাবে পাঠালে, মানসিক ভাবে স্থিতিশীল হলে আবার তিনি ফিরতে পারবেন জীবনের মূলধারায়।
শরৎ যুবরাজের এই তিনটি ভিডিও পোস্টের পর থেকে সংবাদমাধ্যম সজাগ হয়েছে। কিন্তু, দুঃখজনক ভাবে ওই ইঞ্জিনিয়ারের কোনও খোঁজ এর পর আর পাওয়া যায়নি। শেষ একটি পোস্ট যা দেখা গিয়েছে ওই ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে, তাতে শরৎ যুবরাজ লিখেছেন যে যাঁরা ওই ইঞ্জিনিয়ারের জন্য উদ্বিগ্ন হয়েছেন তাঁর ভিডিওর সূত্রে, সবাইকে তিনি কথা দিচ্ছেন যে ওঁকে খুঁজে বের করবেনই! শরৎ যুবরাজ জানিয়েছেন যে রোজ তিনি দল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বেঙ্গালুরুর পথে, নিশ্চয়ই ওঁকে খুঁজে পাবেন!
