
Malda News: ২১ বছরেও তৈরি হয়নি স্কুল ভবন, আমগাছের নিচে চলছে পাঠদান


মালদহ: আমগাছের নীচে সারিবদ্ধভাবে বসে রয়েছে কয়েকজন খুদে। প্রত্যেকের সামনে বই খাতা, প্ল্যাস্টিকের বস্তার উপর বসে কেউ লিখছে, কেউ আবার পড়ছে। সামনে চেয়ারে বসে রয়েছেন দিদিমণি। বছরের পর বছর এইভাবেই চলছে স্কুল। বসার জায়গা বাড়ি থেকেই নিয়ে আসতে হয় পড়ুয়াদের। নাহলে মাটিতে বসতে হবে। নেই ব্লাকবোর্ড নেই চক ডাস্টার।এইভাবেই কেটে গিয়েছে ২১ বছর।মাথার উপর খোলা আকাশ।আর ছায়া আমগাছ।এইভাবেই দিনের পর দিন চলছে খুদে পড়ুয়াদের পঠনপাঠন।
শিক্ষা ব্যবস্থার এমনই ছবি ধরা পড়ল মালদহের চাঁচলের নয়াটোলা শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে। স্কুলের সহায়িকা সালিমা সুলতানা বেগম বলেন, খোলা আকাশের নিচে ক্লাস হচ্ছে তাই অনেকেই স্কুলে আসে না। নিয়মিত প্রচণ্ড সমস্যায় করতে হচ্ছে আমাদের।
২০০৩ সালে নয়াটোলা শিশু শিক্ষা কেন্দ্র চালু হয়। তারপর প্রায় ২১ বছরেও তৈরি হয়নি স্কুল ভবন। যদিও এই নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয় অভিবাবকদের মধ্যে। কিন্তু কোন উপায় নেই। কোন অজানা কারণে এখনও স্কুল ভবন নির্মাণ হয়নি। অভিভাবক কালো বেগম বলেন, স্কুল থাকলে পড়তে আসবে বাচ্চারা। কিন্তু এখানে স্কুলই নেই তাই অনেকেই নিয়মিত স্কুল আসছে না। আমরা চাইছি দীর্ঘদিন ধরেই এখানে স্কুল তৈরি হোক। তাহলে পড়াশোনা হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুল ভবনের অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু জমি সমস্যায় এখনও কাজ শুরু হচ্ছে না।এদিকে দীর্ঘ একুশ বছর ধরে শীত গ্রীষ্ম বর্ষা খোলা আকাশে নীচেই চলছে পাঠদান।বর্তমানে স্কুলে ৩৩ জন পড়ুয়ারা রয়েছে। স্কুলে জন্য ১ জন মুখ্য ও ২ জন সহায়িকা রয়েছেন।তবে ভবন না থাকায় স্কুলমুখী হচ্ছেননা পড়ুয়ারা। স্থানীয় জেলা পরিষদের সদস্য রেহেনা পারভীন বলেন, বিষয়টি আমার জানা আছে। দ্রুত যেন স্কুল তৈরি হয় তার জন্য বিষয়টি বিডিওর কাছে তুলে ধরব। শুনেছি স্কুলের জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছে কিন্তু কাজ হয়নি।
হাতগোনা ৫ থেকে ১০ জনকে নিয়েই চলছে খোলামেলা স্কুল। অনেক সময় পড়ুয়াদের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসতে হচ্ছে শিক্ষিকাদের। সকলেই চাইছেন প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে দ্রুত এই স্কুলের ভবন নির্মাণ করুক। তাহলে হয়তো ছাত্রছাত্রীরা আগ্রহী হবে স্কুলে আসতে।
হরষিত সিংহ