
South Dinajpur News: বোরো ধান চাষের পরিবর্তে শিম চাষ করে ব্যাপক লাভের মুখ দেখছেন বালুরঘাট ব্লকের জলঘর গ্রাম পঞ্চায়েতের তরুণ দাস। বিগত কয়েক বছর যাবত তিনি এই চাষ করছেন। তরুন দাসের কথায় সঠিক সময়ে পাশাপাশি পরিচর্যা করলে ধানের থেকেও বেশি লাভ রয়েছে শিতকালীন শিম চাষে।
বোরো ধান চাষের পরিবর্তে শিতকালীন সিম চাষ করে ব্যাপক আয়ের দিশা দেখাচ্ছেন তরুণ দাস”>
শীতকালীন শিম চাষেই পাবেন দ্বিগুন লাভ
দক্ষিণ দিনাজপুর: শীতকালীন সবজি হিসেবে শিম খুবই জনপ্রিয়। বোরো ধান চাষের পরিবর্তে শিম চাষ করে ব্যাপক লাভের মুখ দেখছেন বালুরঘাট ব্লকের জলঘর গ্রাম পঞ্চায়েতের তরুণ দাস। শীত মৌসুমের শুরুতেই সরবরাহ কম থাকায় দাম থাকে চড়া। তাই বিগত কয়েক বছর যাবত তিনি এই চাষ করছেন। তরুন দাসের কথায়, সঠিক সময়ে পাশাপাশি পরিচর্যা করলে ধানের থেকেও বেশি লাভ রয়েছে শিতকালীন শিম চাষে।
শিম চাষি তরুণ দাস জানান, ”প্রায় সব ধরনের মাটিতে শিম চাষ করা যায়। তবে দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ মাটি শিম চাষের জন্য বেশি উপযোগী। আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাস বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। তবে জল জমে না এমন উঁচু বা মাঝারি উঁচু জমি শিম চাষের জন্য বেছে নেওয়া ভাল।”
তবে, শিমের চারা ও তার আশপাশের আগাছা নিড়ানি দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। তাছাড়া মাঝে মধ্যে নিড়ানি দিয়ে চারার গোড়ার মাটি আলগা ও ঝুরঝুরে করে রাখতে হবে। শিমের খরা সহ্য করার ক্ষমতা থাকলেও বৃষ্টির অভাবে মাটিতে রসের ঘাটতি হলে জলসেচ দিতে হবে।
শিমগাছ লতা নিতে শুরু করলে মাচার ব্যবস্থা করতে হবে। গাছ যখন ১৫-২০ সেন্টিমিটার লম্বা হবে তখন লতা উপরে ওঠার ব্যবস্থা করতে হবে। শিম গাছ লতা নেওয়ার সুযোগ যত বেশি পায়, ফলন তত বেশি হয়। পূর্ণাঙ্গ শিম হতে সময় নেয় তিন মাস। পাইকারি বাজারদর রয়েছে ৩০- ৩৫ কেজি প্রতি।
কচি অবস্থায় শিম সংগ্রহ করতে হবে৷ মনে রাখতে হবে যে ক্ষেতে রাসয়নিক ঔষধ প্রয়োগের অন্তত সাত দিন পর্যন্ত ঐ ক্ষেতের শিম বিক্রি বা খাওয়া যাবে না।
তবে, শিম গাছ খুব বেশি বাড়তি হয়ে গেলে শাখা প্রশাখার আগা ভেঙে দিতে হবে৷ এতে ফলন দ্বিগুন হয়। বীজ বপনের ৪৫ থেকে ৫০ দিন মধ্যে শিম গাছে ফুল আসে। ফুল ফোটার ২০-২৫ দিন পর শিম সংগ্রহ করা যায়। ৪ মাসেরও বেশি সময় ধরে শিম গাছে ফলন পাওয়া যায়।
সুস্মিতা গোস্বামী
