
সেলিম রেজা, ঢাকা: বদলের বাংলাদেশে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষের ক্যান্সার রোগ ধরা পড়ছে। চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আবার পরিষেবা ও সুবিধাও তেমন নেই। ফলে আক্রান্তদের বড় অংশই চিকিত্সার জন্য় আসেন ভারতে। কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে একপ্রকার বাধ্য হয়েই এখন বাংলাদেশেই চিকিত্সা করাতে হচ্ছে তাঁদের। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাব আর বিপুল খরচে বাড়ছে উদ্বেগও।
বাংলাদেশে ক্যানসার আক্রান্ত সংখ্যা কত? কতজনই-বা নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন? সে সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই। তবে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যাভিত্তিক তথ্য, বাংলাদেশে প্রতি এক লাখে ১১৪ জন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। সেই হিসেবে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৩০ লাখের মধ্যে ক্যান্সারের রোগী আছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ২০০ জন। কিন্তু সরকারি তো দূর, বেসরকারি হাসপাতালেও এই বিপুল সংখ্যক রোগীকে পরিষেবা দেওয়ার মতো পরিকাঠামো নেই। ফলে ক্য়ানসার চিকিৎসায় ভারত, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।
ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসক মোল্লা মিজানুর রহমান কল্লোল জি ২৪ ঘন্টার বাংলাদেশ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘ক্যানসার চিকিৎসা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। একজন রোগী যে চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা শুরু করেন, তিনি ওই চিকিৎসকের কাছেই চিকিৎসা প্রক্রিয়া শেষ করতে চান। চিকিৎসার মাঝ পর্যায়ে চিকিৎসক পরিবর্তন করতে হলে নতুন চিকিৎসকের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া-সহ পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়। এছাড়া ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীর মানসিক স্বাস্থ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন রোগীকে মাঝ পর্যায়ে চিকিৎসক পরিবর্তন করতে হয়, তখন রোগীর মধ্যে মানসিক উদ্বেগ তৈরি হয়। যা চিকিৎসায় বিরূপ প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশে ক্যান্সারের রোগীদের বড় একটি অংশ চিকিৎসার জন্য বেছে নেন ভারতকে। ভিসা জটিলতায় এসব ভুক্তভোগী এখন বিপদে পড়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক’।
গ্লোবাল ক্যান্সার অবজারভেটরি তথ্য বলছে, বাংলাদেশে ২০২২ সালে নতুন করে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৭ জন। আর ওই বছর বাংলাদেশের ক্যান্সার আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয় ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৮ জনের। আর ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ক্যানসার রোগী সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৭।
গ্লোবাল ক্যান্সার অবজারভেটরি ২০২২ সালে তথ্য বিশ্লেষণে জানিয়েছে, ওই বছর বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৯৪ হাজার ৯২২। আর মহিলা ৭২ হাজার ৩৩৪। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল খাদ্যনালির ক্যান্সারে আক্রান্ত, যার সংখ্যা ২৫ হাজার ২৩২ বা মোট নতুন শনাক্তকৃত রোগীর ১৫ দশমিক ১ শতাংশ। ঠোঁট বা মুখের অভ্যন্তরে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন ১৬ হাজার ৮৩ জন। ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত ১৩ হাজার জন, স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত ১২ হাজার ৯৮৯ জন, জরায়ু মুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে ৯ হাজার ৬৪০ জন। এছাড়া অন্যান্য ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৯০ হাজার ৩১২।
(Feed Source: zeenews.com)
