
মানসিক দিক থেকে মেয়েরা সাধারণত শক্তিশালী হন বলে মনে করা হয়। সেইসঙ্গে বায়োলজিক্যাল, হরমোনজনিত কারণেও মহিলাদের ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা অনেকটাই বেশি হয়। মহিলাদের ইস্ট্রোজেন হরমোন, ব্যথা কমাতে সাহায্য করে, তবে এর প্রভাব বিভিন্ন পর্যায় যেমন ঋতুস্রাব, গর্ভাবস্থা বা মেনোপজের সময় পরিবর্তিত হতে পারে। এরই পাশাপাশি সমাজ নারীদের নীরবে ব্যথা সহ্য করতে শেখায়, যা তাঁদের অস্বস্তি প্রকাশ করার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।
মহিলারা শক্তিশালী এবং শারীরিক এবং মানসিক উভয় ব্যথাই একসঙ্গে সহ্য করার ক্ষমতা রাখেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁদের ব্যথা উপেক্ষা করা বা লুকিয়ে রাখা উচিত। স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার জন্য ব্যথা কেন হচ্ছে, তা শনাক্ত করা এবং মোকাবিলা করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক চিকিৎসা গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে এবং জীবনের মান উন্নত করতে পারে।
নারীরা কেন বেশি ব্যথা সহ্য করতে পারেন
১) ডাঃ আস্থা দয়াল ব্যাখ্যা করেন, যে মহিলাদের ব্যথা সহনশীলতা বেশি হতে পারে কারণ তাঁদের শরীর গর্ভাবস্থার জন্য তৈরি করা হয়, যার জন্য প্রচুর ব্যথা সহ্য করতে হয়। ইস্ট্রোজেনও ব্যথা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তবে পিরিয়ডস বা মেনোপজের মতো হরমোনের পরিবর্তনের সময় কষ্ট সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
২) এই হরমোনের পরিবর্তন মহিলাদের আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে বলে একই দাবি করেছেন ডাঃ বিমল ছাজের। তাঁর মতে, মহিলারা প্রায়শই নিজেদের অনুভূতির উপর জোর দেন। কঠিন সময়ে বন্ধু বা পরিবারের কাছ থেকে সমর্থন চান, যা তাঁদের মানসিকভাবে আরও ভালভাবে মোকাবেলা করতে সহায়তা করে।
৩) ডাঃ সুরুচি দেশাই আবার বলেছেন, অল্প বয়স থেকেই, পরিবারের সদস্যেরা মেয়েদের প্রায়ই শেখান যে পিরিয়ডের ব্যথা স্বাভাবিক এবং এটি এমন একটি বিষয় যা মেয়েদের মেনে নিতেই হবে।
ব্যথা শুধু শারীরিক নয়- মানসিকও
ডাঃ সমীর মালহোত্রা ব্যাখ্যা করেছেন যে ব্যথার শারীরিক এবং মানসিক উভয় দিকই রয়েছে। বয়স, মেজাজ এবং সমাজের প্রত্যাশা সহ অনেক কারণের উপর নির্ভর করে মানুষ ব্যথার প্রতি ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। উদাহরণস্বরূপ, পুরুষদের থেকে প্রায়শই এটা আশা করা হয় যে তাঁরা কষ্ট-ব্যথা না দেখিয়ে কঠোর হবেন এবং ব্যথা সহ্য করবেন। ওদিকে মহিলাদের গর্ভাবস্থার ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। যদিও এন্ডোরফিন হরমোন, এই সময় ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু হরমোনের পরিবর্তনের কারণে নারীরা পিরিয়ডের সময় বেশি ব্যথা অনুভব করতে পারেন।
স্থায়ী ব্যথা: স্বাস্থ্যকর বা ক্ষতিকারক
ব্যথা সহ্য করলেই প্রায়শই মনে করা হয় যে ওই ব্যক্তি খুবই শক্তিশালী। তবে ব্যথা উপেক্ষা করা আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। ব্যথা হল আপনার শরীর যে ক্ষতির দিকে যাচ্ছে, তার জলজ্যান্ত ইঙ্গিত। এটিকে উপেক্ষা করলে তাই বড় স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, ব্যথার প্রাথমিক সনাক্তকরণ ডাক্তারদের ক্যানসার, হৃদরোগ, বা অঙ্গ ব্যর্থতার মতো গুরুতর অবস্থা খুঁজে পেতে সহায়তা করতে পারে। এই রোগগুলির মধ্যে অনেকগুলি প্রাথমিকভাবে স্পষ্ট লক্ষণগুলি দেখায় না, তবে যখন ব্যথা দেখা দেয়, তখন এটি একটি গুরুতর সমস্যার সংকেত দিতে পারে। তাড়াতাড়ি ব্যথার চিকিৎসা করলে ভালো চিকিৎসা, এবং সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকার উচ্চ সম্ভাবনা থাকতে পারে।
ব্যথা এবং স্বাস্থ্যের অবস্থা
আর্থ্রাইটিস বা কিডনি রোগের মতো অবস্থা থেকে ব্যথা গুরুতর সমস্যাগুলির সংকেত দিতে পারে, যার জন্য অবিলম্বে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তাড়াতাড়ি চিকিৎসা করলে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মত রোগকে ওষুধ দিয়ে দমন করা যেতে পারে। একইভাবে, স্ট্রোক বা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের মতো অবস্থার ব্যথা স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যাগুলি নির্দেশ করতে পারে এবং এ ক্ষেত্রেও তাড়াতাড়ি ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন।
ব্যথা একটি সতর্কতা চিহ্ন
উল্লেখ্য, ব্যথা স্বীকার করা দুর্বলতা নয়, এটি নিজের যত্ন নেওয়ার একটি উপায়। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য আপনার শরীরের কথা শোনা, প্রয়োজনের সময় সাহায্য চাওয়া জরুরি।
(Feed Source: hindustantimes.com)
