
‘লারসেন অ্যান্ড টুব্রো’-র চেয়ারম্যান-এর এই মন্তব্যের জেরে যখন আসমুদ্র হিমাচলে জোর বিতর্ক, তখনই ভাইরাল শাহরুখ খানের একটি পুরনো মন্তব্য। ২০২২ সালে কিং খান একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আরাম করা পাপ!’
মুম্বই: সব কর্মীদের সপ্তাহে অন্তত ৯০ ঘণ্টা কাজ করা উচিত বলে দাবি করেছিলেন ‘লার্সেন অ্য়ান্ড টুব্রো’ সংস্থার চেয়ারম্যান এসএন সুব্রহ্মণ্যন। এমনকী রবিবারেও স্ত্রীর সঙ্গে সময় না কাটিয়ে অফিসে আসার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘কতক্ষণ নিজের বউয়ের দিকে তাকিয়ে থাকবেন? রবিবারও অফিসে গিয়ে কাজ করা উচিত।’ তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে জোর বিতর্ক দেশজুড়ে। ‘লারসেন অ্য়ান্ড টুব্রো’-র চেয়ারম্যান-এর মন্তব্যে বড়-বড় শিল্পপতি, প্রথম সারির ব্যক্তিত্ব মুখ খুলেছেন।
‘লারসেন অ্যান্ড টুব্রো’-র চেয়ারম্যান-এর এই মন্তব্যের জেরে যখন আসমুদ্র হিমাচলে জোর বিতর্ক, তখনই ভাইরাল শাহরুখ খানের একটি পুরনো মন্তব্য। ২০২২ সালে কিং খান একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আরাম করা পাপ!’ চলতি বিতর্কের মধ্যে বাদশার এই কথা যেন যজ্ঞে ঘৃতাহুতি। তিনি বলেছিলেন, সাফল্যের জন্য শুধু পরিশ্রম করলেই চলবে না! থাকতে হবে ধৈর্য, অধ্যাবসা ও এনার্জি! একটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাহরুখ বলেছিলেন, ”যদি সফল হতে চান, খাবেন না, ঘুমাবেন না, আরাম করবেন না…”
‘লার্সেন অ্য়ান্ড টুব্রো’-র চেয়ারম্যান এসএন সুব্রহ্মণ্যন-এর ‘৯০ ঘণ্টা কাজ’ পরামর্শে সিইএসসি, আইপিএল দল লখনউ সুপার জায়ান্টস-এর মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কা লেখেন, ‘স্ত্রীর থেকে মূল্যবান কেউ নন। আমি অনন্তকাল তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকতে পারি।’
সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার সিইও আদার পুনাওয়ালাও মহিন্দ্রা গ্রুপের চেয়ারম্যান আনন্দ মহিন্দ্রার “কাজ ও জীবনের ভারসাম্য”র বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে একমত। পুনাওয়ালা বলেন, “আমার স্ত্রীও রবিবার আমার দিকে তাকিয়ে থাকতে ভালবাসে।” পুনাওয়ালা জানান, তিনি মহিন্দ্রা গ্রুপের চেয়ারম্যানের সঙ্গে একমত, তাঁর বক্তব্য, “আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় আছি কারণ এটি একটি চমৎকার ব্যবসায়িক মঞ্চ। আমার স্ত্রী দারুণ সুন্দরী, তার দিকে তাকিয়ে থাকতে ভালই লাগে!”
এর আগে আরপিজি গ্রুপের চেয়ারম্যান হর্ষ গোয়েঙ্কা বলেছিলেন, “কাজ ও জীবনের ভারসাম্য ঐচ্ছিক নয়, এটি অপরিহার্য।” তিনি এক্স-এ লিখেছিলেন, “সপ্তাহে ৯০ ঘণ্টা? রবিবারের নাম বদলে ‘সান-ডিউটি’ রাখা যাক এবং ‘ছুটির দিন’ একটি মিথ কনসেপ্ট করে তোলা যাক! কঠোর ও বুদ্ধিমানভাবে কাজ করাই আমি বিশ্বাস করি, কিন্তু জীবনের প্রতিটি দিনকে একটি অফিস শিফটে পরিণত করা? এটি সাফল্যের নয়, বরং বার্নআউটের রেসিপি। কাজ ও জীবনের ভারসাম্য অপরিহার্য।”
