Illegal Migrants Deport: কীভাবে আমেরিকা গিয়েছিলেন? তা বিস্তারিত জানিয়েছেন সদ্য আমেরিকা থেকে বিতাড়িত অঙ্কিত। তিনি বলেন, “‘ডঙ্কি রুট’ দিয়ে আমেরিকায় ঢুকেছিলাম। এখানে চাকরি নেই। ওখানে যদি কিছু হয়!
বিস্ফোরক অভিযোগ আমেরিকা থেকে বিতাড়িত যুবকদের পরিবারের
বীরেন্দ্র পুরী, হরিয়ানা: হাতে হাতকড়া, পায়ে বেড়ি পরিয়ে আমেরিকা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীদের। এঁদের মধ্যে রয়েছেন হরিয়ানার কাইথাল জেলার ৫ যুবকও। এখন প্রবল মানসিক চাপে দিন কাটছে তাঁদের।
৪ যুবককে সরাসরি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে পঞ্জাব পুলিশ। তবে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের তরফে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ওই যুবকদের বাড়ি পর্যন্ত হাতকড়া পরিয়ে আনা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, ধুন্ধুরেড়ি গ্রামের সাহিল, প্যৌড়া গ্রামের অভিষেক, কাসান গ্রামের অঙ্কিত এবং আতেলা গ্রামের আমনকে বাড়িতে দিয়ে আসা হয়েছে।
কীভাবে আমেরিকা গিয়েছিলেন? তা বিস্তারিত জানিয়েছেন সদ্য আমেরিকা থেকে বিতাড়িত অঙ্কিত। তিনি বলেন, “‘ডঙ্কি রুট’ দিয়ে আমেরিকায় ঢুকেছিলাম। এখানে চাকরি নেই। ওখানে যদি কিছু হয়! বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের কাছে চড়া সুদে টাকা ধার করে এজেন্টকে দিই। এজেন্ট বলেছিল, ৪৫ দিনের মধ্যে পৌঁছে দেবে। কিন্তু ৭ মাস লেগে যায়।”

মাঝে দেশে ফিরে আসার কথাও ভেবেছিলেন অঙ্কিত। কিন্তু এজেন্টের আশ্বাসবাক্যে মত বদলান। তাঁর কথায়, “এজেন্ট বলল, ‘কোনও চিন্তা নেই, ঠিক পৌঁছে দেব।‘ডঙ্কিরা নিজেদের পেমেন্ট নিয়ে ঝামেলার কারণে মেক্সিকো সীমান্তে ৪৫ দিন বসিয়ে রেখেছিল। এরপর পাহাড়ি পথ ধরে ১৫-২০ কিলোমিটার হাঁটিয়ে কাঁটাতারের বেড়া পার করানো হয়। সেখানে দেখলাম লেখা রয়েছে ‘Welcome to USA’ – এভাবেই আমেরিকায় পৌঁছই।”
অঙ্কিতরা জানিয়েছেন, আমেরিকায় অবৈধ ভারতীয়দের ব্যাপক ধরপাকড় চলছে। তাঁদের কাছে খবর রয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি আরও একটা বিমানে অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন।
ধুন্ধুরেড়ির বাসিন্দা সাহিলের পরিবার জানায়, সকালে পঞ্জাব পুলিশের কয়েকজন সাহিলকে বাড়ি পৌঁছে দেয়। কিছু কাগজপত্রে সই করতে বলে। তারপর সাহিলের ছবি তুলে নিয়ে চলে যায়। তবে জেলা পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন এই ব্যাপারে কিছুই জানে না। আমেরিকা পৌঁছতে সাহিলের ৬ মাস সময় লেগেছিল। ১৫ দিন জেলেও ছিলেন। আম্বালা পর্যন্ত তাঁর হাতে-পায়ে হাতকড়া পরিয়ে আনা হয়েছে।
এখন প্রবল মানসিক চাপে দিন কাটছে সাহিল-অঙ্কিতদের। গ্রামের অনেকেই দেখতে আসছেন। কেউ কেউ বাঁকা নজরে তাকাচ্ছেন। বাড়ির লোকজন হতাশ। বিদেশে চাকরির আশায় মোটা টাকা ধার নিয়েছিলেন। এখন সেই টাকা শোধ করবেন কী করে? রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে তাঁদের।
(Feed Source: news18.com)