থাইরয়েডের মাংসপিণ্ড থেকে ক্যানসারের ভয়? HT বাংলায় আলোচনা করলেন চিকিৎসক

থাইরয়েডের মাংসপিণ্ড থেকে ক্যানসারের ভয়? HT বাংলায় আলোচনা করলেন চিকিৎসক

Health News: বর্তমানে জীবনযাপনের সঙ্গে জড়িয়ে যে যে রোগ কমবেশি জড়িয়ে থাকে, তার মধ্যে থাইরয়েডের সমস্যা অন্য়তম। মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যার প্রবণতা কিছুটা বেশি। কিন্তু থাইরয়েডের সমস্যা সবসময় সাধারণ সমস্যা নাও হতে পারে। সম্প্রতি এই বিষয়ে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে বিশদে কথা বললেন সিএমআরআই হাসপাতালর ইনটারভেনশনাল রেডিয়োলজিস্ট ও বিভাগীয় প্রধান চিকিৎসক অভীক ভট্টাচার্য

অনেকেই ভোগেন সমস্যায়

থাইরয়েড নডিউলের সমস্যা কতটা স্বাভাবিক? চিকিৎসকের কথায়, ‘থাইরয়েড সমস্যা এখন প্রায় প্রতিটি মহিলার মধ্যে দেখা যায়। থাইরয়েড হরমোনের ওঠা-নামায় হাইপো বা হাইপার থাইরয়েডিজমে অধিকাংশ আক্রান্ত হন। এই অসুখ অনেকটাই গা সওয়া হয়ে গিয়েছে। তবে থাইরয়েড গ্রন্থিতে কিছু হলে তা সাধারণ সমস্যা নাও হতে পারে। এটা ভুললে চলবে না। এর মধ্যে অন্যতম হল থাইরয়েড গ্রন্থিতে মাংসপিণ্ড বা নডিউল তৈরি হওয়া। অনেকেরই ধারণা এটা ক্যানসার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা হয় না। তবে ক্ষেত্রবিশেষে অপারেশন প্রয়োজন। এখন এর নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি এসে গিয়েছে। সবার প্রথমে জানা দরকার কেন এই সমস্যা হয়।’

থাইরয়েড গ্রন্থিতে মাংসপিণ্ড কেন হয়?

থাইরয়েড গ্রন্থিতে মাংসপিণ্ড কী কারণে দেখা দেয়? চিকিৎসক জানাচ্ছেন, ‘থাইরয়েড গ্রন্থিতে নডিউল বা মাংসপিন্ড হওয়ার কারণ অনেক। যেমন থাইরয়েড টিস্যু অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেলে নডিউল হয়, যাকে থাইরয়েড অ্যাডিনোমা বলা হয়। আবার, থাইরয়েডে ছোট এক প্রকার জলভর্তি সিস্ট হতে পারে। আয়োডিনের ঘাটতি বা গলগণ্ড থেকেও এক বা একাধিক নডিউল হতে পারে। নির্দিষ্ট কোনও কারণ এখনও জানা যায়নি।’

থাইরয়েড ক্যানসার নয়তো?

এই মাংসপিণ্ড দেখেই অনেকের মনে ভয়ের উদ্রেক হয়। এটা বুঝি ক্যানসার। কিন্তু চিকিৎসক জানাচ্ছেন, ‘এই সমস্ত মাংসপিণ্ড ক্যানসারাস একেবারেই নয়। দেড় শতাংশেরও কম থাইরয়েড নডিউল থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে। গুরুতর উপসর্গ না দেখা দিলে এগুলির চিকিৎসা করার দরকার পরে না।’

নডিউল রয়েছে বোঝার উপায়?

কোন উপসর্গ দেখে বোঝা সম্ভব থাইরয়েড গ্রন্থিতে মাংসপিণ্ড তৈরি হয়েছে। অভীকবাবুর কথায়, ‘এর সাধারণত কোনও উপসর্গ থাকে না। যা দেখা বা অনুভব করা যেতে পারে। যেটা থেকে শ্বাসকষ্ট, গলায় ঢোক গিলতে সমস্যা হয়, গলা ফোলা বা মাঝেমধ্যে গলায় ব্যথা হতে পারে।’ তাহলে রোগ ধরার উপায়? ‘সমস্যা নির্ণয়ের জন্য় শারীরিক পরীক্ষা, রক্তপরীক্ষা ও আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আল্ট্রাসাউন্ড করে নডিউলটি ক্যানসারাস না ননক্যানসারাস, সেটা বলে দেওয়া সম্ভব। তবে সন্দেহভাজন কিছু পেলে ফাইন নিডল অ্যাসপিরেশন বায়োপসির (FNAC) দরকার পড়ে।’

অস্ত্রোপচার ছাড়া উপায় নেই?

চিকিৎসকের কথায়, ‘ক্যানসারহীন মাংসপিণ্ড হলেও রোগীর টেনশন হতে থাকে যদি নডিউল বাড়তে থাকে বা গলার এক দিক ফুলে যায়। সে ক্ষেত্রে রোগীর আত্মবিশ্বাস কমতে থাকে। এই সমস্ত ক্ষেত্রে এতদিন পর্যন্ত শুধুমাত্র অস্ত্রোপচার করেই সমাধান মিলত। এই সার্জারি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ ও থাইরয়েড গ্রন্থির একটি অংশ কেটে বাদ দিতে হয়। ফলে পরবর্তীকালে থাইরয়েড হরমোনের অসামঞ্জস্যও প্রকাশ পেতে পারে। বর্তমানে থাইরয়েড অ্যাবলেশন পদ্ধতিতে বিশেষ ইন্টারভেনশন রেডিয়োলজির সাহায্যে বিনা অস্ত্রোপচারে এই ধরনের মাংসপিণ্ডের চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে রোগীকে অজ্ঞান না করে শুধু সরু সুচ দিয়ে থাইরয়েড নডিউলকে পুরোপুরি সংকুচিত করে দেওয়া সম্ভব। রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। এটি ডে কেয়ার প্রসেডিওর। একদিনেই রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে যান।’

থাইরয়েড নডিউলের ঝুঁকি এড়াব কীভাবে?

থাইরয়েড নডিউলের এই ঝুঁকি কি এড়ানো সম্ভব? তার জন্য কী করণীয়? চিকিৎসক জানাচ্ছেন, ‘থাইরয়েড গ্রন্থিতে নডিউলের বিকাশ কেন হচ্ছে তার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। এটা যে কোনও কারও যে কোনও সময়ে হতে পারে। তবে কিছু জীবনশৈলী মেনে চললে থাইরয়েড নডিউল হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। যেমন, খাবারে নিয়মিত আয়োডিনের ব্যবহার। ওজন কমানো, ধূমপান না করা, বার্থ কন্ট্রোল পিল না খেলে নডিউল হওয়ার সম্ভাবনা কমে।’

প্রতিবেদনটি চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে তাঁর মতামতের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। ব্যক্তিবিশেষ অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রেই বদলে যায় চিকিৎসা পদ্ধতি। তাই যে কোনও সমস্যায় শুধুমাত্র এই প্রতিবেদনের কথায় ভরসা না রেখে, ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসকের বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

(Feed Source: hindustantimes.com)