
স্মার্টফোন ভরে ওঠে স্প্যাম মেসেজ। ব্যস্ত সময়ে আসে স্প্যাম কল। নোটিফিকেশন বারে চোখ রাখলেই একের পর এক বিভ্রান্তিমূলক মেসেজ। কিছু কিছু এমনও হয় দেখে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়। আর একবার ক্লিক করলেই হয়ে গেল। কোথায় বলতে কোথায় রিডিরেক্ট করে দেবে। এই বিষয়গুলোতে এবার রাশ টানতে বড় সিদ্ধান্ত নিল টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া অর্থাৎ টিআরএআই।
যেসব টেলিকম কোম্পানি বারবার স্প্যাম বা অবাঞ্চিত বা হয়রানিমূলক ফোন কল এবং অযাচিত মেসেজ সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন করে, তাদের ২ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা যেতে পারে। টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা টিআরএআই এই বিষয়ে টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির উপর কড়াকড়ি নিয়ম আরোপ করেছে।
সমস্ত টেলিকম অপারেটরদের রিয়েল টাইমে সম্ভাব্য স্প্যামারদের শনাক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ কল ভলিউম, শর্ট কল এবং ইনকামিং এবং আউটগোয়িং কল, এসএমএস প্যাটার্ন বিশ্লেষণের নির্দেশ দিয়েছে। টিআরএআই জানিয়েছে, স্প্যাম কলের সংখ্যা সম্পর্কে ভুল তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে প্রথম লঙ্ঘনের জন্য ২ লক্ষ টাকা, দ্বিতীয় লঙ্ঘনের জন্য ৫ লক্ষ টাকা এবং পরবর্তী লঙ্ঘনের জন্য প্রতি ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হবে।
বুধবার ট্রাই কর্তৃক জারি করা এক বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, বাণিজ্যিক বা কমার্শিয়াল মেসেজ শনাক্তকরণেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রচারমূলক মেসেজগুলির সামনে ‘P’ লেখা থাকবে, যেখানে পরিষেবা সম্পর্কিত মেসেজগুলির সামনে ‘S’ লেখা থাকবে। টেলিকম কোম্পানিগুলিকে এই ব্যবস্থা করতে হবে। আর যদি কোনও গ্রাহক বাণিজ্যিক মেসেজ গ্রহণ বন্ধ করে দেন, তাহলে কোনও প্রচারণা সংস্থা ৯০ দিনের আগে ওই গ্রাহকের কাছ থেকে সম্মতি চাইতে পারবে না।
৭ দিনের মধ্যে অভিযোগ করতে পারবেন
জানা গিয়েছে, নতুন নিয়মগুলি আগামী ৩০-৬০ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সমস্ত টেলিকম কোম্পানিকে তাদের অ্যাপ বা পোর্টালে স্প্যাম কলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার জন্য স্পষ্টভাবে একটি জায়গা প্রদর্শন করতে হবে, যাতে গ্রাহকরা সহজেই সেগুলিতে ক্লিক করে অভিযোগ করতে পারেন। গ্রাহকদের কাছ থেকে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় তথ্য নিতে হবে। গ্রাহকরা ই-মেইলের মাধ্যমে টেলিকম কোম্পানিগুলির কাছে অভিযোগ করতে পারবেন। স্প্যাম কলের নম্বরটি প্রদান করে এবং অ্যাপে স্ক্রিনশট আপলোড করেও রিপোর্ট করা যেতে পারে।
স্প্যাম কল সম্পর্কে, টিআরএআই আরও বলেছে যে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা এখন সাত দিনের মধ্যে অবাঞ্ছিত কল এবং মেসেজ সম্পর্কে অভিযোগ করতে পারবেন। আগে এই রিপোর্ট জানানোর সময়সীমা ছিল মাত্র তিন দিন। এখন সেই সময়সীমা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাঁচ দিনের মধ্যে স্প্যাম কলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আগে এই সীমা ছিল ৩০ দিন। যদি ১০ দিনের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে কোম্পানিগুলিকে তার নম্বর ব্লক করে কালো তালিকায় ফেলার মতো পদক্ষেপ করতে হবে।
(Feed Source: hindustantimes.com)
